সারিয়াকান্দিতে উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচনে সাংসদকে ডিঙিয়ে প্রার্থী হলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মন্টু

সারিয়াকান্দিতে উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচনে সাংসদকে ডিঙিয়ে প্রার্থী হলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মন্টু

রাজশাহী

সারিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে কাকতালীয় ভাবে প্রার্থীর পরিবর্তন হয়েছে। স্থানীয় সাংসদের বাছাই করা ৮জনের নাম কেন্দ্রীয় কমিটিতে গেলেও, মনোনয়ন পেয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম মন্টু মন্ডল। সাংসদকে ডিঙ্গিয়ে উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ায় তিনি এখন সবার মুখে আলোচনায় এসেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকার মৃত্যুর পর ওই পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। গত ১১ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই দিন রেজাউল করিম মন্টু মন্ডল দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। কিন্তু এর আগে আওয়ামী লীগ দল থেকে, দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে ঘরোয়া বৈঠকের পাশাপাশি বর্ধিত সভা করা হয়।

দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের জন্য বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক দুলুর নাম অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও পাশাপাশি সহ-সভাপতি মমতাজুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ ফারাজী, সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সাহাদত হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ্জামান, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও প্রয়াত সাংসদ আবদুল মান্নানের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম রাজু, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম পটল এবং প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে রাকিব মাহমুদ জয়ের নাম পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

কিন্তু তাদের কেউই ওই উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী হিসাবে বিবেচিত হননি। হয়েছেন বগুড়া জেলা কমিটির পাঠানো সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম মন্টু মন্ডলের নাম। তিনি দলটির জন্ম লগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ দলীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও দলটির দুর্দিনে দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাছাড়াও তিনি দলের একজন বড় ডোনার হিসাবে নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত। দূর্দিনের কা-ারী হিসাবে পরিচিত, সদা বিনয়ী ও ন¤্র ভদ্র এই বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিক্ষিত আওয়ামী লীগ কর্মী হিসাবেই সবার কাছে পরিচিতি থাকলেও বছর খানেক হলে স্থানীয় সাংসদ সাহাদারা মান্নানের সাথে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। এ কারণে প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহান সাগর সহ যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কিছু নেতা-কর্মী সহ ওই মন্টু মন্ডলের সাথে সাংসদ সাহাদারা মান্নানের মতানৈক্য তৈরী হয়। যার কারণে তারা উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ হিসাবে পরিচিত পান।

একাংশ নেতারা ভিন্ন দলীয় অফিস নিয়ে, দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা সহ আলাদা ভাবে সভা সমাবেশ করে আসছেন। অনুষ্ঠিত সভা সমাবেশে সাংসদ সাহাদারা মান্নানের কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করেন নেতারা। একারনেই উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য দলীয় মনোনয়নে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠাননি সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান। তবে শেষ পর্যন্ত রেজাউল করিম মন্টু মন্ডল ওই পদে প্রার্থী হয়ে আলোচনায় এসেছেন। তবে গত বুধবার দলীয় অফিসে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন নিয়ে বর্ধিত সভা করা হয়।

সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে তা চলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাংসদ সাহাদারা মান্নান। সভায় উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায় থেকে আসা পৌর ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে সবার উদ্দ্যেশে সাংসদ সাহাদারা মান্নান বলেন মতামত যাই থাকুন না কেন আজ তা ভুলে যেতে হবে। সবার মন এক করে কাধে কাঁধ মিলিয়ে দলীয় প্রার্থী রেজাউল করিম মন্টু মন্ডলকে আসন্ন উপ-নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে উদাত্ত আহ্বান জানান।