নাগেশ্বরীতে সড়কের দুই ধারে মসজিদ ও মন্দির

নাগেশ্বরীতে সড়কের দুই ধারে মসজিদ ও মন্দির

রংপুর

মাঝখানে সড়ক তার দুইধারে মসজিদ ও মন্দির। চলে মুসলমান ও হিন্দু ২ ধর্মের মানুষের ধর্মপালন। আযানের ধ্বনি পড়লেই মুসলমানরা সারি বেঁধে নামাজ আদায়ে চলে আসেন মসজিদে। অপরদিকে নামাজ শেষেই পূজা মন্ডপে চলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দূর্গোৎসব। কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই যার যার ধর্ম পালন করেন নির্দ্বিধায়। ধর্ম যার যার উৎসব সবার এমন বিশ্বাসেই কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এই দৃশ্য দেখতে আসেন অনেকেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও রয়েছে বিশেষ নজরদারী।

স্থানীয়রা বলছেন সম্প্রীতি আর ভালোবাসার নিবিড় বন্ধনে চলছে নাগেশ্বরী নেওয়াশী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সুখাতি বোর্ডঘর বাজারের রাস্তার দু’ধারের মসজিদ ও মন্দিরে দুই ধর্মের মানুষের ধর্ম পালন। ঐতিহ্যের স্মারক বহন করে আছে এই মসজিদ ও দূর্গা মন্দির। যুগযুগ ধরে এমন নিয়ম চলে আসলেও এখানে কখনোই ঘটেনি কোনোপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা। মসজিদে আযান এবং নামাজের সময় হলেই পূজা মন্ডপে বন্ধ হয় ঢাকের বাজনা এবং পূজা অর্চনা। আবার শুরু হয় নামাজের সময় শেষ হলেই।

এই এলাকায় দুই ধর্মের মানুষই বসবাস করলেও সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রয়েছে বহুযুগ ধরেই। এ দৃশ্য দেখতে আসছেন দূর দূরান্তের উৎসুক দর্শনার্থীরা। দুই ধর্মের মানুষের এমন মেলবন্ধন দেখে খুশি সকলেই।
স্থানীয় মুসলমান ধর্মের নজরুল ইসলাম জানায়, তাদের এখানে যুগযুগ ধরে ২ ধর্মের মানুষের মেলবন্ধন চলে আসছে। মিলেমিশে চলছেন তারা। উভয়ে উভয় পক্ষকেই সম্মান করে। কখনোই তাদের মাঝে কোনো প্রকার ঝামেলা কিংবা কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং তাদের এই সুসম্পর্ক দেখে অনেই আশ্চর্য হয়।

স্থানীয় হিন্দু ধর্মের শিক্ষার্থী নূপুর রায়, সীমা রানী জানায় তারা ছোট বেলা থেকেই এখানে মসজিদ ও মন্দির দেখে আসছেন। একসাথে ২ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও তাদের মাঝে কখনও কোনো প্রকার দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদ তারা দেখেননি। বরং সবার সহযোগিতা ও সহমর্মিতা ভাব দেখে ভালো লাগে তাদের। মুকুল রায় জানায়, মসজিদে আযান ও নামাজের সময় হলেই তাদের পূজা মন্ডপে বন্ধ হয় ঢাকের বাজনা এবং অন্যান্য অনুনষ্ঠানিকতা। নামাজের সময় শেষ হলে আবার শুরু করেন তাদের কার্যক্রম।

এই পূজা মন্ডপ ও মসজিদ দেখতে আসা শিক্ষার্থী রাহিমুল ইসলাম জানায়, সে বহুদূর থেকে দূর্গা পূজা ও মসজিদ দেখতে এসেছে। সে এর আগে কোথাও এমনটা দেখেনি। তাই এ দৃশ্য আর এখানকার মানুষের একে অপরের ভালোবাসা দেখে ভালো লেগেছে তার।

নেওয়াশী ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, এখানে হিন্দু ধর্মের মানুষ হিন্দু ধর্ম পালন করে, মুসলমান ধর্মের মানুষ মুসলমান ধর্ম পালন করে। আমাদের নামাজের সময় তারা ঢাকঢোল বন্ধ করে আবার নামাষ শেষ হলে তাদের কাজ তারা করে। এতে কোনো সমস্যা হয় না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহমেদ মাছুম বলেন, উপজেলার ৯০টি পূজা মন্ডপে চলছে শারদীয় দূর্গোৎসব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর রয়েছে প্রশাসন। এখানে মসজিদ ও মন্দির কাছাকাছি থাকলেও কোনো অভিযোগ আসেনি কখনও। বরং ধর্মীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্থানীয়রা।

উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান বলেন, উপজেলার সব পূজা মন্ডপে ৫০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখানে খুবই জাকজমকভাবে উৎসব পালন করা হচ্ছে। এখানকার দূর্গোৎসব মনে হচ্ছে যেনো সবারই উৎসব। বরং মুসলমান ও হিন্দু দুই ধর্মের মানুষের সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি আর একে অপরের সহযোগিতার মাধমে এই উৎসব পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি এখানে একটি মসজিদ ও মন্দির কাছাকাছি থাকলেও সেখানে কারও কোনো দ্বন্দ্ব নেই। মসজিদে আযান এবং নামাজ শুরু হলে হিন্দুরা তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখছে আবার নামাজ শেষ হলে পূজা শুরু করছে হিন্দুরা। যার কারণে এখানে সাম্প্রদায়িক কোনো সমস্যা নেই।