ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

জাতীয়

মিথ্যা তথ্যের মামলায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়মিত বৈঠকে এ চার্জশিটের অনুমোদন দেওয়া হয়।

দুদকের পরিচালক মো. বেনজীর আহম্মদ মামলাটি তদন্ত করেছেন। শিগগিরই মামলাটির বিচারের লক্ষ্যে এ চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপ-পরিচালক) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগে নাজমুল হুদার বিরদ্ধে মামলাটি করে দুদক। গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় এসকে সিনহার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ওই মামলার অভিযোগে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে হওয়া একটি মামলা উচ্চ আদালতে ডিসমিস করার পরও প্ররোচিত হয়ে মামলাটির রায় পরিবর্তন করা হয়। মামলাটি ডিসমিস করতে দুই কোটি টাকা ও অন্য একটি ব্যাংক গ্যারান্টির আড়াই কোটি টাকার অর্ধেক এক কোটি ২৫ লাখ টাকা উৎকোচ চান এসকে সিনহা। পরে এই মামলাটি তদন্তের জন্য দুদকে যায়। দেড় বছরের তদন্তে সিনহার বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে দুদক উল্টো মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে মামলা করে।

এর আগে গত বছরের ৯ জানুয়ারি অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা এবং দুই মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদা ও শ্রাবন্ত্রী আমিনা হুদার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক।

একটি মামলার এজাহারে বলা হয়, সিগমা হুদা ও অন্তরা সেলিম হুদা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ৩ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড স্টার্লিংয়ের সমপরিমাণ ৪ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা যুক্তরাজ্যে পাচার করেছেন। ওই টাকা দিয়ে ২০০৩ সালের ২৬ জুন লন্ডনের ওয়াটার গার্ডেনসের বারউড প্যালেসে একটি ফ্ল্যাট কেনেন তারা।

আরেকটি মামলার এজাহারে বলা হয়, সিগমা হুদা ও শ্রাবন্তী আমিনা হুদার ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড স্টার্লিংয়ের সমপরিমাণ ২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা যুক্তরাজ্যে পাচার করেছেন। ওই টাকা দিয়ে ২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর হেলনি কোর্টের ডেনহাম রোডে একটি ফ্ল্যাট কেনেন তারা। অর্থাৎ বিদেশে অর্থ পাচার করে দুটি ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগে মামলা করে দুদক।