এবারের পূজার সাজ-পোশাক

এবারের পূজার সাজ-পোশাক

সাজগোজ টিপস

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা কড়া নাড়ছে দুয়ারে। পূজার সবচেয়ে বড় আনন্দ মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে বেড়ানো। তবে উৎসবের আনন্দে শুধু ঘুরে বেড়ালেই হবে না, এর পাশাপাশি নজর রাখতে হবে নিজের সাজ-পোশাকের দিকেও।

শারদীয় দুর্গাপূজার ষষ্ঠী থেকে দশমী এই পাঁচ দিন সাজা যাবে ইচ্ছামতো। পোশাকটি হতে পারে দেশি কিংবা পাশ্চাত্য ঢঙের। তবে সাজতে হবে আপনার স্বাচ্ছন্দ্যবোধ, রুচি ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিলিয়ে। আধুনিক, ঐতিহ্যবাহী, সনাতনী যেভাবেই নিজেকে সাজান তবে তা হতে হবে স্নিগ্ধ। তাই জেনে নিন পূজার সাজের প্রস্তুতি —

পোশাক : শারদীয় দুর্গাপূজার পোশাক মানেই সাদা-লাল পেড়ে শাড়ি। এ ছাড়া শাড়ির আঁচল, কামিজ বা কুর্তার নেক লাইন ও পাঞ্জাবির ক্যানভাসেও থাকতে হবে স্বতন্ত্রতা। এখন ধুতির জায়গা নিয়েছে পাজামা বা আরো এগিয়ে বললে জিন্স। অন্যদিকে শাড়ির জায়গায় সালোয়ার-কামিজ বা চুড়িদার কামিজ। তবে যাই পরেন না কেন, সেটা হতে হবে বয়সের সঙ্গে মানানসই।

লিপস্টিক : দুর্গাপূজায় মেয়েদের এক প্যাঁচে লাল-সাদা গরদ শাড়ি, চুলের সাজে খোঁপা বা খোলা রাখা লম্বা চুল, সিঁথিতে সিঁদুর, কপালে লাল টিপ, হাতে শাখা-এ সাজে খুব সহজেই ঠোঁটে লাল লিপস্টিকই সবার পছন্দ। তবে এ ক্ষেত্রে চোখের মেকআপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চোখের মেকআপকে গুরুত্ব দিতে চাইলে ঠোঁটকে হালকা রাখতে হয়। আবার একটু গ্লসের ব্যবহারেই হালকা লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁটটাই বেশি গুরুত্ব পেয়ে যায়। কিন্তু এ গরমের সময় পূজার দিনের সাজে লিপগ্লস আপনাকে বেমানান লাগতে পারে। তাই বুঝে নিন কোনটি আপনার জন্য মানানসই। মুখে মেকআপ না করেও নজর কাড়তে পারেন দারুণ শেডের লিপস্টিক দিয়ে।

মুখের মেকআপ : বেজ মেকআপই আসলে মেকআপের ভিত্তি। বেজ মেকআপের জন্য পুজোর সারা দিনের সাজে অবশ্যই আপনার স্কিন অনুযায়ী ম্যাচ করে বা এক-দুই শেড উজ্জ্বল মেকআপ নির্বাচন করা প্রয়োজন। যেহেতু গরমের সময় তাই ঘাম থেকে বাঁচতে মেকআপ হতে হবে ওয়াটারপ্রুফ। এ সময় দিনের বেলায় সূর্যের তাপ থাকে প্রচুর। তাই ত্বক সানবার্নমুক্ত রাখতে অবশ্যই সান প্রোটেকটেড ফিল্টার-সমৃদ্ধ মেকআপ নির্বাচন করা প্রয়োজন। বেজ মেকআপ অ্যাপ্লাই করার পর চেহারা বা ত্ব¡কের ন্যাচারাল শেড ঢাকা পড়ে এক ধরনের ফ্ল্যাট লুক আসে। তাই প্রতি ক্ষেত্রেই ডার্ক শেড ব্যবহার করে আবারও চেহারার শার্পনেস ঠিক করে নিতে হবে। তাই বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন আপনার পূজার সাজ যেন হয় হালকা।

ব্লাশন : পরিপূর্ণ মেকআপের ক্ষেত্রে সঠিক ব্লাশনের ব্যবহার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্লাশনের ওপর ন্যাচারাল লুক অনেকটাই নির্ভর করে। তাই ব্লাশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্বকের রঙের সঙ্গে মানানসই ব্লাশন ব্যবহার করতে হবে। ত্বকের রং মেকআপে ব্লাশনের সঠিক ব্যবহার সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন ফর্সা, উজ্জ্বল শ্যামলা বা মাঝারি রং এবং কালো। ত্বকের রঙের ওপর নির্ভর করে ব্লাশনের রং পরিবর্তন হবে। আপনি ফর্সা হলে একটু হালকা রঙের ব্লাশন ব্যবহার করতে হবে। মেকআপ লাগানোর পর আপনার গালে ব্রাশ দিয়ে ব্লাশন লাগিয়ে ভালোভাবে মুখের সঙ্গে মিশিয়ে নিন।

তবে কালো রঙের আধিকারী মেয়েদের ক্ষেত্রে গোলাপি অথবা হালকা কমলা রঙের ব্লাশ অন অনেক ভালো লাগবে। এ ছাড়াও রং হাইলাইট করতে হালকা সোনালি আভা দিলেও ভালো মানাবে। প্রথমে অ্যাঙ্গেল ব্রাশ দিয়ে ব্লাশন লাগিয়ে হাত দিয়ে হালকা করে একটু ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এতে করে রং মুখের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যাবে। ডার্ক স্কিনের জন্য সোনালি রংই সবচেয়ে ভালো হয়। এতে আপনার গালে একটি সুন্দর আভা ফুটে উঠবে।

চোখের মেকআপ : দুর্গাপূজায় যেহেতু বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা। তাই সাজসজ্জায় বাঙালি লুকটাই গুরুত্ব পায়। আর এখন যেহেতু গরমের সময় তাই হালকা মেকআপই ভালো লাগবে। আপনার চোখের জন্য আইশ্যাডোর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্রাউন, ব্রোঞ্জ, গোল্ডেন, কপার এবং চাহিদা অনুযায়ী আইলাইনার ও দু-তিন কোট মাশকারার প্রলেপ দিন। এসবই এ সময়ের জন্য উপযুক্ত।

চুল : চেহারার ধরন, সময়, পোশাক, কোথায় ঘুরতে যাচ্ছেন-সবকিছুর সঙ্গে মানানসই হওয়া চাই আপনার চুলের স্টাইল। কারণ ঠিকঠাকমতো চুলের স্টাইলই এনে দিতে পারে আপনার সাজের পরিপূর্ণতা। আর পরিপূর্ণ একটি সাজ আপনার ভাবমূর্তিকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে সহায়ক। তাই কৌশল হিসেবে আগেভাগেই চুল বাঁধার কয়েকটি ধরন রপ্ত করে রাখতে পারেন। এবারের পূজায় পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ঝটপট চুলের সাজটি সেরে নিতে আর বেগ পেতে হবে না।

অনুষঙ্গ : পূজায় সাজের ক্ষেত্রে আপনার অনুষঙ্গ সামগ্রী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কানের দুল, গলার মালা, নাকের নথ, খোঁপার কাঁটা, সিঁথিতে সিঁদুর-এসবই পূজার সাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিঁথিতে সিঁদুর দেওয়ার ভিন্ন ভিন্ন ধরন আছে, কিন্তু বিবাহিত মেয়েদের কাছে সিঁথিতে সিঁদুর কেবলমাত্র সাজের অনুষঙ্গ নয়, পাশাপাশি হাতের শাঁখা-পলাও ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। কানের দুল, গলার মালা, নাকের নথ, খোঁপার কাঁটা সবই নির্ভর করে সাজের বিশেষত্ব, পোশাকের ধরন এবং মানুষটির পছন্দ ও ব্যক্তিত্বের ওপর।