নীলফামারীতে আশ্বিনা বৃষ্টিপাতে আলু চাষিদের স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ

রংপুর

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে হঠাৎ আশ্বিনা বৃষ্টিপাতে আগাম আলু চাষিদের উজ¦ল স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ভেঙ্গে গেছে তাদের আশার আলো। এখন তাদের স্বপ্নে গুড়ে বালি। এ উপজেলার কৃষাণ-কৃষাণীদের নাড়ির স্পন্দন আগাম আলুতে তাদের অনেক বাড়তি আয় হবে। তাই আলু আবাদে মেতে উঠেন কৃষকরা। গত কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া আর দু’দিনের ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে অনেক কৃষকের আলু ক্ষেত।

এতে দুচিন্তায় পড়েছেন আগাম আলু চাষিরা। জমিতে আলুর বীজ পঁচে যাওয়াসহ সঠিক সময়ে ঘরে রাখা আলু জমিতে লাগানো নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এমন বর্ষণ অব্যাহত থাকলে জমিতে রোপণকৃত আলু পঁচে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন আলু চাষীরা। ৪ অক্টোবর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায় চলতি বছর আশ্বিন মাসের শুরুতে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় অনেক চাষী তাদের প্রস্তুতকৃত জমিতে সেভেন জাতের আলু রোপন করেছেন।

চারা গজে ওঠার আগেই দুদিনের ভারী বৃষ্টিতে অনেক ক্ষেতের আলু মাটির নিচে পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষীরা। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন করে আলু চাষাবাদের জন্য সরকারের নিকট প্রণোদনার দাবি জানান তারা। বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের কৃষক শেরিফ জানান, কয়েকদিন আগে তার রোপণকৃত ৩ বিঘা জমির আলু বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন ওই জমির আলু পঁচে যাওয়া ছাড়া আর বাচাঁনোর কোন উপায় নেই।

এতে তার ৬০ হাজার টাকার মত ক্ষতি হবে। একই গ্রামের হাড়িবেচা পাড়ার আবদুল আজিজ জানান, তিনি আলু রোপণের জন্য ৬০ বিঘা জমি প্রস্ততসহ ১৫ দিন আগে ৩শ বস্তা আলু হিমাগার থেকে বাড়িতে মজুদ করেছেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার জন্য রোপণ করতে পারেননি। তার সেই প্রস্তুতকৃত জমিও হয়ে গেছে নষ্ট। অপর আলু চাষি শামীম হোসেন বাবু জানান, তার ৪ বিঘা জমির আলু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে তার ৮০ হাজার টাকা ক্ষতি হবে বলে জানান।

এরকম অন্যান্য ইউনিয়নের অনেক কৃষকের আলু পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে নতুনভাবে আলু রোপনের চিন্তায় মুষড়ে পড়েছেন কৃষকরা। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া বীজ আলু উত্তোলন করছেন অনেক কৃষক। এদিকে নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের বান্নিরডাঙ্গার কৃষক শাহীন বলেন, আমিও আশ্বিনা বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতে আলু রোপণ করতে পারছি না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, উপজেলার কিছু এলাকার নিচু জমির আলু তলিয়ে গেছে, উঁচু জমির আলু কোন ক্ষতির আংশকা নেই। মাঠ পর্যায়ে আলু চাষীদের সার্বিকভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ বছর ৪ হাজার ১৪ হেক্টর জমিতে আগাম আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।