ক্রাইম পেট্রোল সিরিয়াল দেখে দিনাজপুরে শিশু হত্যা; একজনের যাবজ্জীবন: দু’জনের ৩ বছর করে কারাদন্ড

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ভারতীয় টিভি শো ক্রাইম পেট্রোল সিরিয়াল দেখে অল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার আশায় দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ৪ বছর বয়েসী এক শিশুকে অপহরন করে মুক্তিপন আদায়ের জন্য হত্যা করে লাশ গুম করার অপরাধে আব্দুস সালাম ওরফে সামিউল (২৫) নামে যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেছেন বিচারক। একই সাথে এই মামলায় অপর ২ আসামীকে ৩ বছর করে কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেন বিচারক।

দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক সিনিয়র জেলা জজ শরীফ উদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় প্রদান করেন।

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামী সামিউল জেলার হাকিমপুর উপজেলার মুহাড়াপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। মামলার অপর দুই আসামী হলেন- সামিউলের পিতা আমজাদ হোসেন (৫৫) ও মা ছানোয়ারা বেগম (৪৫)।

বিচারক সামিউলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডের পাশাপাশি ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের এবং বাকী ২ আসামীকে ৩ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাস করে কারাদন্ডের রায় প্রদান করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল হাকিমপুর উপজেলার মুহাড়াপাড়া গ্রামের মামুনুর রশিদ আজাদের ৪ বছর বয়সী ছেলে আবতাহী আল রশিদকে অপহরন করে মোবাইলে এসএমএস’র মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে। পরে শিশুটির পিতা হাকিমপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ আজাদ বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করে। অবহিত হওয়ার পর পুলিশ প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামী সামিউলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এ সময় সামিউল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল দেখে অল্প সময়ে বড়লোক হওয়ার জন্য শিশু আবতাহীকে অপহরন করে মুক্তিপন দাবি ও শিশুকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ঘরের ছাদের মাচাংয়ে গুম করে রাখার বিষয়টি স্বীকার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশ আসামীর বাড়ীর ছাদের মাচাং থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা বাদী হয়ে হাকিমপুর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩) এর ৭/৮/৩০ ধারা তৎসহ দ:বি: ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘ দেড় বছর তদন্ত করে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এই মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামী সামিউলকে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩) এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদন্ড, ৮ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদন্ড, দ:বি: ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদন্ড এবং ২০১ ধারায় ৭ বছরের কারাদন্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদন্ডের রায় প্রদান করেন। একইসাথে সামিউলের পিতা ও মাতাকে ২০১ ধারায় ৩ বছর করে কারাদন্ড, ৩ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদন্ডের রায় প্রদান করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এ্যাড. তৈয়বা বেগম বলেন, স্বাক্ষী-প্রমানের ভিত্তিতে আমরা হত্যার বিষয়টি প্রমানে সমর্থ হয়েছি। আমাদের চেষ্টা স্বার্থক হয়েছে, এই রায়ে আমরা খুশি।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিশুটির পিতা মামুনুর রশিদ আজাদ। তিনি বলেন, এই রায়ে আমি খুশি। এমন রায়ের ফলে অন্য কেউ আর এমন অপরাধ করতে সাহস পাবে না।