পায়ের গোড়ালি ফাটা রোধে করনীয়

পায়ের গোড়ালি ফাটা রোধে করনীয়

সাজগোজ টিপস

পায়ের গোড়ালিতে ফেটে যাওয়ার সমস্যায় অনেকেই পড়েন। এই সমস্যাটি খুব যন্ত্রণাদায়ক। সাধারণত পায়ের নীচের চামড়া শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে ফেটে যায়। আগেভাগে সতর্ক না হলে রক্তপাতও হতে পারে!

জেনে নিন পায়ের গোড়ালি ফাটার সমস্যা প্রতিরোধে সহজ-ঘরোয়া-কার্যকরী টিপস:

উষ্ণ পানি
প্রতিদিন কাজকর্মের শেষে বাড়িতে ফিরে অন্তত মিনিট ২০ পা ডুবিয়ে রাখুন শ্যাম্পু মেশানো উষ্ণ পানিতে। তুলে পামিস স্টোন বা ঝামাপাথর দিয়ে ঘষে নিয়ে একবার ধুয়ে নিন, তার পর ক্রিম মেখে, চটি পরে নিন। রাতে শোয়ার সময় ডিপ ময়েশ্চরাইজ়ার লাগিয়ে নিন।

পেট্রোলিয়াম জেলি
কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলে ফুটো করে তেলটা বের করে নিন। তার পর পেট্রোলিয়াম জেলির সঙ্গে ভিটামিন ই মিশিয়ে সেটা পায়ে মেখে ফেলুন। রাতের দিকে এই প্রলেপ লাগিয়ে মোজা পায়ে দিয়ে শুলে দারুণ নরম থাকবে পা।

মধু
ফাটা গোড়ালির প্রতিকারে মধুই হোক প্রথম পছন্দ। পায়ের রুক্ষ ত্বক পরিষ্কার করে, প্রাকৃতিক ভাবে নমনীয় করে তোলে মধু। একমুঠো চালের গুঁড়ো নিয়ে এতে ২/৩ টেবিল চামচ মধু, ২ তেবিল চামচ ভিনেগার, ১ তেবিল চামচ অলিভ অয়েল/ আলম- অয়েল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করুণ। প্রথমে ১০ মিনিট গরম পানিতে পা ভিজিয়ে নিয়ে এই পেস্টটি দিয়ে পায়ের গোড়ালি ভালো করে স্ক্রাব করে নিন।

নারকেল তেল
শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর করতে নারকেল তেলের জুড়ি মেলা ভার। গরম জলে পা চুবিয়ে রেখে নারকেল তেল মালিশ করুন। পা ফেটে রক্ত বেরনোর উপক্রম হলে নিমেষে আপনাকে নিস্তার দিতে পারে খাঁটি নারকেল তেল!

অ্যালোভেরা জেল
শুষ্ক-মৃত কোষকে নতুন প্রাণ দেয় অ্যালোভেরা জেল। গোড়ালি ফাটলে তাই এর সাহায্য নিতেই পারেন। অ্যালোভেরা জেলে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড আপনার ফাটা-রুক্ষ গোড়ালিকে রাতারাতি করে তুলবে সুন্দর-নমনীয়।ফুট বাথ নেওয়ার পর অ্যালো ভেরা জেল আর অলিভ অয়েলের একটা মিশ্রণ তৈরি করে পুরো পায়ে ভালো করে লাগিয়ে নিন।

গ্লিসারিন
গোলাপজলে রয়েছে ভিটামিন এ, বি৩, সি, ডি ও ই, অ্যান্টিসেপ্টিক এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা পা ফাটা দূর করে। এবং গ্লিসারিন ত্বককে নরম ও কোমল করতে সহায়তা করে। সমান পরিমাণ গোলাপজল এবং গ্লিসারিন মিশিয়ে নিয়ে প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ের গোড়ালি ও পাতায় ম্যাসেজ করুণ।

পাকা কলা
একটি পাকা কলা নিয়ে তা ভালো করে পিষে নিন। পা ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে এই পিষে নেয়া কলাটি পায়ের ওপর লাগান। ১০-১৫ মিনিট পড়ে গরম জল দিয়ে পা ধুয়ে ফেলুন।

লেবু
লেবুর এসিডিক উপাদান পায়ের ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে পা ফাটা রোধ করে। একটি লেবু কেটে নিয়ে সরাসরি তা দিয়ে পায়ের গোড়ালিতে ঘষুন। এ ছাড়া হাল্কা গরম জলে লেবুর রস মিসিয়ে ১০-১৫ মিনিট ডুবিয়ে রেখে ঝামা ইট দিয়ে ঘষে নিন পায়ের গোড়ালি।