আফগানদের কাছে বাংলাদেশের যুবাদের হার

আফগানদের কাছে বাংলাদেশের যুবাদের হার

খেলা

স্পোর্টস: প্রথম ইনিংসে অনেকটাই পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল আভাস দিল ঘুরে দাঁড়ানোর। বড় লক্ষ্য যদিও দিতে পারল না তারা। স্বাগতিকদের বোলিংয়ে তারপরও ম্যাচ কিছুটা জমে উঠল।

তবে শেষের হাসি আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলেরই। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার একমাত্র যুব টেস্টে আফগানদের বিপক্ষে ৩ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হারের মঞ্চ গড়া হয়ে গিয়েছিল প্রথম ইনিংস শেষেই, ১১৯ রানে পিছিয়ে ছিল তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ২২৮ রান করে আফগানদের দেয় ১১০ রানের লক্ষ্য।

যা সফরকারীরা ছুঁয়ে ফেলে দিনের দ্বিতীয় সেশনে। দুই ইনিংসেই একই বোলার ও ব্যাটসম্যান ভোগায় বাংলাদেশকে। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া বিলাল সামি এবার নেন তিনটি। দুই ইনিংসে চারটি করে উইকেট নেন ইজহারুল হক নাভিদ।

আর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা বিলাল সায়েদি রান তাড়ায় করেন ফিফটি। দিনের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৪ উইকেটে ১৭০ রান নিয়ে খেলতে নেমে প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যেই তারা হারিয়ে ফেলে আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যানকে।

আগের দিন ৫১ রানে এগিয়ে থাকা দলের রান আর বাড়াতে পারেননি আইচ মোল্লা। নাভিদের লেগ স্পিন তার ব্যাটের বাইরের কানা নিয়ে কিপারের প্যাডে লেগে যায় সিলি পয়েন্টের ফিল্ডারের হাতে। ৩ চারে ৪০ রান করেন তিনি। সামির বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ১৯ রান ফিরে যান আশরাফুল ইসলাম।

এই পেসারকেই আগের ওভারে চার মেরে রানের খাতা খোলেন মেহরব হাসান। পরে তিনি ছক্কায় ওড়ান নাভিদকে। এই লেগ স্পিনারকে আরেকটি ছক্কা মারেন তাহজিবুল ইসলাম। দ্রুত রান তোলায় মনোযোগ দেওয়া মেহরব বাঁহাতি স্পিনার কামরান হোতাককেও পাঠান মাঠের বাইরে। তার আগ্রাসী ব্যাটিং থামান নাভিদ।

রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে তিনি বোল্ড হয়ে যান, দুটি করে ছক্কা-চারে করেন ৩০ রান। আহসান হাবিবকে এলবিডব্লিউ করে দ্রুত ফেরান নাভিদ। আর ২০ রান করা তাহজিবুলও ফেরেন এলবিডব্লিউ হয়ে, সামির বলে। পরের ওভারেই রিপন মন্ডলকে ফিরিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দেন নাভিদ। ২২৮ রানেই শেষ ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

রান তাড়া করতে নামা আফগানিস্তানের ইনিংসে প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন রিপন ম-ল। এলবিডব্লিউ করে দেন তিনি সুলিমান সাফিকে। ইশহাক জাজাইকেও টিকতে দেননি এই পেসার। শরীর তাক করা বাউন্সার খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন ইশহাক। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক ইজাজ আহমাদকে এক রানেই ফিরিয়ে দেন মুশফিক হাসান। সতীর্থদের আসা যাওয়ার মাঝে এক প্রান্ত আগলে রেখে লক্ষ্যে এগোতে থাকেন বিলাল সায়েদি।

আর অন্য পাশে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলে বাংলাদেশ। আইচকে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ধরা পড়েন জাহিদউল্লাহ সালিমি। এই অফ স্পিনারের পরের ওভারে ফেরেন বিলাল আহমাদ। হারতে বসা ম্যাচে ৭০ রানে প্রতিপক্ষের ৫ উইকেট তুলে কিছুটা আশা জাগায় বাংলাদেশ। তবে আফগানদের ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সায়েদি দৃঢ়তার সঙ্গে দলকে এগিয়ে নেন।

তিনি ফিফটি তুলে নেন ১০২ বলে। প্রান্তিক নওরোজ নাবিলের বলে এরপরই কট বিহাইন্ড হন তিনি ৫৪ রানে। তার ১০৮ বলের ইনিংসে চার ১০টি। দলীয় ১০৮ রানের মাথায়ই মুশফিকের বলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন নাভিদ। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও মোটেও ভাবতে হয়নি আফগানদের। ততক্ষণে তারা পৌঁছে গেছে জয়ের খুব কাছে। দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন কামরান হোতাক ও নানগেয়ালিয়া খারোটে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ১ম ইনিংস: ১৬২
আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল ১ম ইনিংস: ২৮১
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ২য় ইনিংস: (আগের দিন ১৭০/৪) ৮৭.২ ওভারে ২২৮ (আইচ ৪০, আশরাফুল ১৯, মেহরব ৩০, তাহজিবুল ২০, হাবিব ২, রিপন ০, মুশফিক ০*; সামি ১৭-৫-৪০-৩, ফায়সাল ৪-১-১১-০, নাভিদ ৩৬.২-১০-৮৪-৪, খারোটে ১৬-৪-২৯-২, সামিলি ২-০-১১-১, হোটাক ১২-৩-৩৫-০)।
আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ১১০) ৪৩.২ ওভারে ১১৩/৭ (সাফি ২, সায়েদি ৫৪, ইশহাক ১৫, ইজাজ ১, সালিমি ১৩, বিলাল ০, হোতাক ২০*, নাভিদ ০, খারোটে ৫*; রিপন ১৩.২-৪-৩৪-২, মুশফিক ৭-১-২৬-২, হাবিব ৩-০-১০-০, আইচ ১১-১-৩২-২, আশরাফুল ৫-৩-৬-০, খালিদ ৩-২-১-০, নাবিল ১-০-৪-১)।
ফল: আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৩ উইকেটে জয়ী।