জার্মানির দরজায় কড়া নাড়ছে জাতীয় নির্বাচন

জার্মানির দরজায় কড়া নাড়ছে জাতীয় নির্বাচন

আন্তর্জাতিক

জার্মানির দরজায় কড়া নাড়ছে জাতীয় নির্বাচন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মন গলাতে শেষ সময়ের প্রচারণায় ব্যস্ত চ্যান্সেলর পদপ্রার্থীরা। আর এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই শেষ হতে চলছে দীর্ঘ ১৬ বছর জার্মানির নেতৃত্বে থাকা চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের শাসন।

দীর্ঘ পথ চলায় ম্যার্কেল নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্যন্য উচ্চতায়। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, ব্রেক্সিট সংকট, বৈশ্বিক রাজনৈতিক সমস্যা নিরসন এবং শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ানোসহ জার্মানিকে ইউরোপের শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ায় তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। এখন দেখার বিষয় চ্যান্সেলের পদে ম্যার্কেলের বিদায়ে তার শূন্যতা কতটুকু পূরণ করতে পারবেন নতুনরা।

২০০৫ সাল থেকে জার্মানির সর্বোচ্চ পদে থেকে যেভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন ঠিক সেভাবেই ইউরোপের যেকোনও বিপদে তাকেই পাশে পেয়েছেন বিশ্ব নেতারা। কিন্তু জার্মানির আসন্ন পার্লামেন্টে নির্বাচনে এবার ৬৭ বছর বয়সী ম্যার্কেল আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। অনেক আগেই চিন্তাটা করে রেখেছিলেন এবার অবসরে যাওয়ার।

ম্যার্কেল প্রার্থী না হওয়ার কারণে এবারে ইউরোপের মনোযোগ আকর্ষণ করছে জার্মানির নির্বাচন। গবেষক পেপিজন বার্গেসনের মতে, আঙ্গেলা ম্যার্কেল অংশ না নেওয়ায় ২০১৩ এবং ২০১৭ সালের চেয়ে এবারের নির্বাচন পরবর্তী জার্মানির রাজনীতি ও নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ম্যার্কেলের উত্তরসূরি কে হতে চলছেন তা ভোটের কিছুদিন পরই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। কারণ ফলাফল পেতে সপ্তাহখানেকও লেগে যেতে পারে। যিনি পরবর্তী চ্যান্সেলর হচ্ছেন তাকে দেশে এবং বিদেশের বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

জার্মানির এবারের নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল হলো, ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) ও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এসপিডি)। বিগত আট বছর এই দুই দল জোটবদ্ধভাবে সরকার পরিচালনা করলেও এখন তারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দলগুলোর বাইরে জোট সহযোগী দল হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি।

ম্যার্কেলের উত্তরসূরি হলেন ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)-এর নেতৃত্বে থাকা ৬০ বছর বয়সী আরমিন লাশেট। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতিতে। সবচেয়ে বড় বিষয় আসন্ন নির্বাচনে চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী ল্যাশেট-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন চ্যান্সেলর ম্যার্কেল। নির্বাচনে বিজয়ী হতে তাকে ইতোমধ্যে নানাভাবে পরামর্শও দিয়ে আসছেন তিনি।

কিন্তু তার প্রতিপক্ষরাও বেশ ভালো অবস্থানেই আছেন। লাশেটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন এসপিডির ওলাফ শলৎস, যিনি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নির্বাচনী প্রচারণা বেশ ঘটা করেই করেছেন। নিজেকে এগিয়েই রেখেছেন তিনি।

পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন আনালেনা বেরবক। ওলাফ শলৎস আভাস দিয়েছেন, আগামী দিনে বিজয়ী হলে তার দল গ্রিন পার্টির সঙ্গে জোট সরকার গঠন করবে।
বিভিন্ন জরিপে এসেছে, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ২৬ শতাংশ, ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন ২২, পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি ১৮ শতাংশ ভোট পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবারের বড় দলগুলোর প্রধান ইস্যুই হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করা। ক্ষমতায় এলে কোন দল কীভাবে তা বাস্তবায়ন করবে সেটিই এখন তুলে ধরা হচ্ছে। কারণ গত জুলাইয়ে জার্মানিতে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাণহানি ঘটে অনেকের। ফলে গ্রিন পার্টি তাদের নির্বাচনি প্রচারণায় ২০৩০ সাল নাগদ গ্রিস হাউস গ্যাস নিঃসরণ ৭০ শতাংশ কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যান্য দলগুলো জলবায়ু ইস্যুকেই সামনে রেখে জার্মানির অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মোট ৭০৯টি আসনের মধ্য ২৯৯টি আসনে সরাসরি নির্বাচন হবে। অন্য আসনগুলো দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী মীমাংসিত হবে। ১৬ রাজ্যে ৬ কোটি ৪০ লাখ ভোটার দুটি করে ভোট দেবেন। একটি ভোট সরাসরি প্রার্থী নির্বাচনের, অপরটি পছন্দের দলকে।