একদিনে ঘাটে আসছে প্রায় দেড় হাজার মণ ইলিশ

একদিনে ঘাটে আসছে প্রায় দেড় হাজার মণ ইলিশ

জাতীয়

দেশে জাতীয় মাছ ইলিশের সবচাইতে বড় বাজার চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাট।স্থানিয় মেঘনা ও পদ্মা নদীতে ইলিশের তেমন দেখা পাচ্ছে না জেলেরা।তবে উপকূলীয় এলাকার ইলিশ মাছে আবারো জমজমাট হয়ে উঠেছে চাঁদপুর ইলিশ বন্দর।একদিনেই ঘাটে এসেছে ইলিশ বোঝাই ১৫/১৬ টি ফিশিং বোট। যার পরিমান হবে প্রায় দেড় হাজার মণ।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আঃ বারী জমাদার মানিক। তিনি বলেন,চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাট হলো ইলিশের ল্যান্ডিং জোন। আমরা দাদন দিয়েছি, তাই চাঁদপুরে ইলিশ আসে। গত দুইতিন দিন ইলিশের আমদানি কিছুটা বেড়েছে।

প্রতি মণ ইলিশ দুই তিন হাজার টাকা কমেছে। তবে এটি কাক্সিক্ষত আমদানি নয়। সামনে আরও বেশি পরিমাণ ইলিশ এখানে আসবে বলে আশা করেন তিনি।’ এদিকে মঙ্গলবার সরজমিনে ঘাটে গিয়ে দেখা যায় পটুয়াখালী, ভোলা ও নোয়াখালীর হাতিয়া অঞ্চল থেকে ইলিশ বোঝাই সারিসারি ফিশিং বোট মাছঘাটের পন্টুনে বাধা।

এক এক করে বোট থেকে ইলিশ উঠানো হচ্ছে আড়তে। ফিশিং বোট থেকে ঝুড়ি ঝুড়ি ইলিশ তুলছেন শ্রমিকরা। এ দিন সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাইকারি ক্রয় বিক্রয় হয়েছে হাজী মালেক খন্দকার,হাজী গফুর জমাদার,বাবুল হাজী ও রব চোকদারের আড়তে। ৫০০ -৭০০ গ্রাম সাইজের প্রতি মণ ইলিশ পাইকারী বিক্রি হয়েছে সাড়ে ১৮ হাজার থেকে ২২ হাজার ৫’শ টাকা দরে।এক কেজির উপরে ইলিশ ক্রয় বিক্রয় হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা মণ দরে।

সাধারণ ক্রেতারা জানান,ইলিশের ভরপুর আমদানি হলেও দাম তেমন একটা কমেনি। ঘাটে আশা অধিকাংশ ইলিশ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলে যাওয়ায় এখানকার মানুষ বেশি পরিমান ইলিশ আমদানির সুফল তারা পাচ্ছে না। ক্রেতা সাধারণ বলেন, চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় মাছ কম ধরা পড়লেও চাহিদা মেটাচ্ছে সাগর ইলিশ।

তবে বাজারে ইলিশের আমদানি বাড়লেও দাম তেমন কমেনি। ইলিশের ভর মওসুমে এখনো ৪/৫’শ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশে কেজি ৫০০ টাকার উপরে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, ‘চাঁদপুর মাছঘাটে গড়ে প্রতিদিন চার থেকে ছয় মেট্রিক টন ইলিশ আসছে। সাগরে কম্বিং অপারেশন শেষ হয়েছে। এখন জেলেরা সেখানে মাছ ধরছেন। আগামী সপ্তাহ থেকে ইলিশের আমদানি আরও বাড়বে।

তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাত কম। সে কারণে চাঁদপুরের নদী অঞ্চলে ইলিশ কম আসছে।এখানে আসা ইলিশ শুধু চাঁদপুরেরই নয়, দক্ষিণের অনেক জেলা থেকেই এখানে ইলিশ আসে।’

চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য জানান, ভরা পূর্ণিমার কারণে এখন সাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। সামনে ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এখন ইলিশ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে।