ইভ্যালির এমডি-চেয়ারম্যানকে আইনের আওতায় আনা হবে: দুদক

ইভ্যালির এমডি-চেয়ারম্যানকে আইনের আওতায় আনা হবে: দুদক

জাতীয়

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রতারণা ও জালিয়াতির নথির তালাশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নথিপত্র দুদকের হাতে এলেই কোম্পানির এমডি-চেয়ারম্যানকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

অনুসন্ধান টিমের সূত্রে জানা গেছে-নথিপত্র চেয়ে গত মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, সিটি করপোরেশন, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিসহ বেশ কয়েকটি সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে। কমিশনের চাহিদাপত্রের আংশিক জবাব দিয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। তদন্ত স্বার্থে সম্পূর্ণ বলা ঠিক হবে না বলে জানান অনুসন্ধান ঠিমের প্রধান। তিনি বলেন,চলতি সপ্তাহে সকল দপ্তরের চাহিদাপত্র তদন্ত টিমের হাতে আসবে বলে আশা করছেন কমিশন। সোমবার দুদকের অনুসন্ধান টিমের এক সদস্য প্রতিবেদককে এসব তথ্য জানান।

দুদকের বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে গত ৮ জুলাই ইভ্যালির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম আদায় করা প্রায় ৩৩৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে কমিশন।

দুদকে দেয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম ২১৪ কোটি টাকা আদায়ের পর ডেলিভারি না দেওয়া ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ১৯০ কোটি টাকার রিফান্ড না দেওয়ার অভিযোগে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। ইভ্যালির বিরুদ্ধে মোট ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা দায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছে নেওয়া অগ্রিম, সরবরাহকারীদের দেনা ও ব্যবসায়িক দেনাসহ ইভ্যালির মোট দায়ের পরিমাণ ৫৪৩ কোটি টাকা। এছাড়া, শেয়ারহোল্ডার ইক্যুইটি বাবদ আরও এক কোটি টাকা ইভ্যালি দায়ের কথা বলা হয়েছে।

গ্রাহকদের কাছে অগ্রিম ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর ইভ্যালির চলতি সম্পদের পরিমাণ ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। বাকি অর্থ কোথায় রযেছে তার সন্ধানে দুদকের টিম।
এবিষয়ে বক্তব্য নিতে দিদক সচিব ড.,মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারকে ফোন দেয়া হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। অর্থ পাচার শাখার এক পরিচালক বলেন,অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে। তথ্য-প্রমান সংগ্রহ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।