দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র বিরুদ্ধে ১০ কাউন্সিলরের সুনিদিষ্ট অভিযোগের তদন্ত ২৭ সেপ্টেম্বর

দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র বিরুদ্ধে ১০ কাউন্সিলরের সুনিদিষ্ট অভিযোগের তদন্ত ২৭ সেপ্টেম্বর

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ১০ কাউন্সিলরের করা সুনিদিষ্ট অভিযোগ সরেজমিন তদন্ত হবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর।

স্থানী সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের পৌরসভা-১ শাখার নির্দেশে সরেজমিন তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

সরেজমিন তদন্ত করবেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক( অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ শরিফুল ইসলাম। তিনি সরেজমিন তদন্তের জন্য মেয়র কাউন্সিলর ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি চিঠি ইস্যু করেছেন।

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় এই তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তা করার জন্য অভিযোগকারী ৯ জন কাউন্সিলর ও মেয়রকেসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

যে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সেই অভিযোগে প্যানেল মেয়র ও প্যানেল মেয়র-২ সহ ১০ জন কাউন্সিলর স্বাক্ষর করেছেন।

তারা দিনাজপুর জেলা প্রশাসক, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব দূর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যাসহ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে অভিযোগটি প্রেরণ করেন।

এরমধ্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার,স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের জন্য রাজস্ব ও আর্থিক ক্ষতি হওয়ার অভিযোগ সরেজমিন তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য জেলা প্রশাসন দিনাজপুরের স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক( অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ শরিফুল ইসলামকে নির্দেশ দেন।

গত এপ্রিল মাসের ১২ তারিখে করা বিভিন্ন দপ্তরে কাউন্সিলরদের প্রেরণকৃত অভিযোগে জানা যায়, পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের স্বৈরাচারি মনোভাব, স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে পৌরসভার নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিভিন্ন কমিটির রেজুলেশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি অনিয়মতান্ত্রিক কাজ করছেন। পৌর কাউন্সিলররা লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেও ফল পাননি।

অন্যায় ভাবে লাভবান হওয়ার জন্য তিনি নিময় না থাকার পরও হাটবাজার ইজারাদারগণকে পৌর পরিষদের অনুমোদন না নিয়ে কিস্তি সুবিধা দিয়েছেন। এতে দিনাজপুর পৌরসভা ১ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নিজে লাভবান হওয়ার জন্য পৌরসভার এই ক্ষতি করেছেন। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেটে অনুমোদন বা বরাদ্দ না থাকার পরও পৌরসভার তহবিল থেকে দুস্থ অসহায় ব্যক্তিকে প্রায় ১ লক্ষ টাকা প্রদান করেছেন।

পৌরসভার বিভিন্ন শাখায় কোন পদ শূন্য না থাকলেও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাষ্টার রোলে লোক নিয়োগ দিয়েছেন। হিসাবের বাইরে এই লোক গুলি বিভিন্ন শাখায় কর্মরত আছেন। কাজ নাই মুজুরি নাই ভিক্তিতে কাজ করা লোক গুলোকে বন্ধের দিনেও কাজ করানো দেখিয়ে পুরো মাসের বেতন প্রদান করছেন। যাতে পৌরসভা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

সম্প্রতি সময় ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের নিবন্ধন প্রদান করে দিনাজপুর পৌরসভা। যাতে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। উক্ত ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার কোন হুদিস নেই।

এছাড়াও তিনি যান্ত্রিক শাখা, বাজার শাখা, পয়ঃ প্রনালী শাখার কর্মকর্তা, কর্মচারিদের সঙ্গে যোগসাজস করে আর্থিক ভাবে অন্যায় লাভের জন্য কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। এতে দিনাজপুর পৌরসভা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ১০ জন কাউন্সিলর লিখিত অভিযোগ করলে এই তদন্তের আদেশ দেয় স্থানী সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়। সেই আদেশের প্রেক্ষিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব আলী দুলাল, ২ নং প্যানেল মেয়র এ কে এম মাসুদুল ইসলাম তদন্তের চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন দেয়া হলে তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।