সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ল ,বিদেশ যেতে পারবেন না খালেদা জিয়া

সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ল ,বিদেশ যেতে পারবেন না খালেদা জিয়া

জাতীয়

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। সচিবালয়ে আজ রোববার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শর্তসাপেক্ষে তিনি (খালেদা জিয়া) যে জামিন পেয়েছেন এবং চিকিৎসা করাচ্ছেন, সেই সময়টা বর্ধিত করার জন্য তাঁর ছোট ভাই একটা আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনটি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর আমরা অনুমোদন দিয়েছি। আগের শর্ত বহাল রেখে চতুর্থবারের মতো সাজার মেয়াদ ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন প্রক্রিয়াধীন। মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত আমরা পেয়েছি। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছিলেন, ‘খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তাঁর সুচিকিৎসার জন্য মুক্তির প্রার্থনা জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আবেদনটির আইনি মতামত চেয়ে আমাদের কাছে (আইন মন্ত্রণালয়ে) এসেছে। আমরা এ আবেদনের আইনি বিষয় পর্যালোচনা করে দেখে মতামত দিয়েছি। মতামতটি আজই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অনুমোদন সাপেক্ষে আবেদনটি নিষ্পত্তি করবে।’

আবেদনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘অসুস্থতার গ্রাউন্ডে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া হয়েছে আবেদনে।’

এর আগে গত ৯ মে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি সরকার। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে করা আবেদন ‘মঞ্জুর করা যাবে না’ মর্মে মতামত দেয় আইন মন্ত্রণালয়। আইন মন্ত্রণালয়ের এ মতামতের ওপর ভিত্তি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবেদনটি নাকচ করে দেয়।

খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে করা এ আবেদন মঞ্জুর না করার বিষয়ে তখন আইনি ব্যাখ্যা দেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী টেলিফোনে বিদ্যমান ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার বিধানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আলোকে খালেদা জিয়ার সাজা ও দণ্ডাদেশ আগেই স্থগিত করে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির একই ধারা অনুযায়ী, দ্বিতীয়বার তাঁকে অনুরূপ সুযোগ দিয়ে বিদেশে যেতে দেওয়ার সুযোগ নেই।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ১০ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। ২৭ এপ্রিল তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৫৪ দিন পর ১৯ জুন তিনি গুলশানের বাসায় ফেরেন। একমাস পর ১৯ জুলাই তিনি করোনা টিকার প্রথম ডোজ নেন। ২৮ আগস্ট নেন দ্বিতীয় ডোজের টিকা।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতের রায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাবন্দি হন খালেদা জিয়া। তারপর নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে শুরু হয় তাঁর কারাজীবন। একই বছরের ৩০ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর বাড়িয়ে ১০ বছরের আদেশ দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ।

অন্যদিকে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। পুরান ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৫ নম্বর অস্থায়ী বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে এক বছরের বেশি সময় বন্দিজীবন কাটানোর পর চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে নিয়ে আসা হয় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কেবিন ব্লকের প্রিজন সেলে।

গত বছর সারা বিশ্বে মহামারি করোনা ছড়িয়ে পড়লে শর্তসাপেক্ষে সরকার প্রধানের নির্বাহী আদেশে জামিন পান খালেদা জিয়া। প্রায় ২৫ মাস (কারাগার ও বিএসএমএমইউর প্রিজন সেল) কারাভোগের পর তিনি ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্ত হন। বিএসএমএমইউ প্রিজন সেল থেকে মুক্তির পর গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।