দুদকে

বেনামে দিয়েও দুদকের হাত থেকে শেষ রক্ষা পেলনা বিআরটিএর কর্মকর্তা

জাতীয়

ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নামে -বেনামে দিয়েও দুর্নীতি দমন কমিশনের হাত থেকে শেষ রক্ষা পেলনা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক ফারহানুল ইসলাম। চাকরির মাত্র আট বছরে তিনি ১২ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বিআরটিএ’র এই কর্মকর্তা এবং তার ভাই রায়হানুল ইসলামকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে দুদক।

মামলার এজাহারে জানা যায়-২০১২ সালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন ফারহানুল। এরমধ্যেই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুদকের হাত থেকে বাঁচতে এসব সম্পদ দিয়েছে পরিবারের সদস্যদের নামে।

বিআরটিএ’র এই কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ গচ্ছিত রাখতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ইউসিবিএল ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক এবং আইডিএলসিতে সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব ও ক্রেডিট কার্ড হিসাবসহ মোট দশটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ১২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা লেনদেন করেন। এসব অর্থের বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি তিনি।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় বছর আট মাসের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক হিসাব খোলেন। এসব ব্যাংক হিসাবের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গুলশান শাখার একটি হিসাবে ছয় কোটি ৯২ লাখ, একই ব্যাংকের আরেকটি হিসাবে ১৪ লাখ টাকা, একটি ভিসা কার্ডের বিপরীতে ১৮ লাখ, একটি মাস্টার কার্ডের বিপরীতে ২৮ লাখ টাকা লেনদেন করেন। এ ছাড়া ফারহানুল ইসলাম তার আপন ছোট ভাই রায়হানুল ইসলামের নামে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের একই শাখায় নতুন একটি হিসাব খুলে এক কোটি ১৩ লাখ, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখায় আরেকটি হিসাব খুলে ১১ লাখ টাকা লেনদেন করেন।

এছাড়া, ফারহানুল ইসলামের মা লুৎফুন নাহারের নামে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মিরপুর-১০ নম্বর শাখায় একটি ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডে একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। এই দুটি ব্যাংক হিসাবে মা লুৎফুন নাহারের নামে ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা লেনদেন করেন।

মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, রায়হানুল ইসলাম ও তার পরিবার সদস্যদের ১২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু এসব অর্থের বৈধ কোনও উৎস দেখাতে পারেননি তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ সংস্থাটির উপ-পরিচালক রফিকুজ্জামান বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে দীর্ঘদিন সহকারি পরিচালক হিসেবে দুর্নীতির আঁখড়া মিরপুরের বিআরটিএ কার্যালয়ে দায়িত্বে ছিলেন। গত বছরের ২ নভেম্বর তিনি নোয়াখালী সার্কেলে বদলি হন।

মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক মো.রফিকুজ্জামান বলেন,এখন তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানেই আসামীর সম্পদের আয়ের সাথে ব্যয়ের সঙ্গতি নেই। দুদকের মামলা খেয়ে মোবাইল নাম্বার বন্ধ রেখেছে বিআরটিএর কর্মকর্তা ফারহানুল ইসলাম। ০১৬৭০০০১৩৫২ নাম্বার আর ব্যবহার করেন না। তার আর কোন নাম্বার পাওয়া যায়নি।