সড়কের মালিকানা নিয়ে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টানাটানি

সড়কের মালিকানা নিয়ে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টানাটানি

জাতীয়

সড়কের মালিকানা নিয়ে সরকপারি প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) টানাটানি চলছে। দেশের ১১ সড়ক নিয়ে এ অবস্থা চলছে। সড়কগুলো নিজেদের বলে দাবি করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ওসব সড়কের দৈর্ঘ্য ২১৯ কিলোমিটার। একই সঙ্গে এলজিইডি ৬১১টি সড়ক গেজেটভুক্ত করারও প্রস্তাবও দিয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের যে ১১টি সড়ক নিয়ে সরকারি দুই সংস্থার মধ্যে টানাটানি চলছে সেগুলোর মধ্যে যশোর জেলায় রয়েছে ৭টি। সেগুলো হচ্ছে- মনিরামপুর-নেহাল-অভয়নগর (নূরবাগ) সড়কের দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার। যা বর্তমানে এলজিইডির মালিকানায় রয়েছে। এখন সওজের মালিকানা দাবি করে হস্তান্তরের প্রস্তাব করেছে। এভাবে অন্যান্য সড়কও এলজিইডি থেকে সওজের কাছে মালিকানা হস্তান্তরের প্রস্তাব রয়েছে। অন্য সড়কগুলো হচ্ছে সাড়ে ২১ কিলোমিটার কেশবপুর-নেহালপুর সড়ক, ১৭ কিলোমিটার অভয়নগর (ভাঙ্গাগেট)-মথুরামপুর বাজার-বিছালি বাজার-আগাদিয়া বাজার-নড়াইল (গোবরা সড়ক), ১৬ কিলোমিটার চৌগাছা-মহেশপুর সড়ক, ২৩ কিলোমিটার ঝিকরগাছা-চৌগাছা সড়ক, ৯ দশমিক ৩০ কিলোমিটার অভয়নগর (বসুন্দিয়া)-বাঘারপাড়া (ধলগা) সড়ক এবং ২৮ কিলোমিটারের শার্শা-চৌগাছা সড়ক। তাছাড়া মেহেরপুর জেলার ৪টি সড়ক হচ্ছে- ১৯ কিলোমিটার পশ্চিম মালসাদহ-হাড়াভাঙ্গা হয়ে সাহেবনগর (বাকিরমোড়) সড়ক, ৩০ কিলোমিটারের গাংনী-হাটবোয়ালিয়া-আসমানখালী-ভালাইপুর সড়ক, ১৩ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার গাংনী (পূর্ব-মারসাদহ)-বারদী বাজার সড়ক এবং ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার বামুন্দী-কাজীপুর-প্রাগপুর বিডিআর ক্যাম্প সড়ক।

সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুনভাবে অনেক রাস্তা তৈরি হয়েছে। সেগুলোর এখনো আইডি নম্বর হয়নি। ফলে ওসব রাস্তায় এলজিইডি কোনো উন্নয়ন কাজ বা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে না। এলজিইডি ঢাকা, ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ জেলার ওই রকম ৬১১টি সড়কে গেজেটভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। সেগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ৮৬৩ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত সড়কগুলোর মধ্যে ঢাকা জেলায় এলজিইডির বাছাই করা সড়কের সংখ্যা ৯৬টি। সেগুলোর দৈর্ঘ্য ১৪০ দশমিক ২৪ কিলোমিটার। তাছাড়া ময়মনসিংহ জেলার ২৭৯টি সড়কের দৈর্ঘ্য ৫৫৯ দশমিক ২১ কিলোমিটার। গোপালগঞ্জ জেলার ২৩৬টি সড়কের দৈর্ঘ্য ১৬৪ দশমিক ১২ কিলোমিটার।

সূত্র আরো জানায়, দেশের সড়ক জনগণের সম্পত্তি। কিন্তু এর দেখাশোনা নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়েছে। মূলত এর সাথে ক্ষমতার লড়াই এবং আর্থিক মুনাফা লাভের বিষয়টি জড়িত। তাছাড়া আর তো অন্য কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে যে সংস্থা বেশি দক্ষতা দেখাতে পারে তাকেই দায়িত্ব দেয়া উচিত। কিন্তু এখানে তো দক্ষতার প্রতিযোগিতা হচ্ছে বলে মনে হয় না। তবে তা হলে দেশ ও জনগণ উপকৃত হতো।

এদিকে এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের খুলনা জোন অফিসের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ আসলাম আলী জানান, রোডের বিষয়টি সংজ্ঞায়িত করা আছে। সে অনুযায়ী সেগুলো এলজিইডি থেকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে স্থানান্তরের দাবি যৌক্তিক। সেজন্যই সওজ’র পক্ষ থেকে মালিকানা স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। তাছাড়া সম্প্রসারিত সড়ক নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে সেগুলো প্রয়োজন। সওজ’র অধীনে আসলে সরকারের অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে সড়ক ও জনপথের মানদ- অনুযায়ীই সংস্কার করা হবে। তাতে করে জনগণ উন্নত সড়ক যোগাযোগর সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) রতন কুমার দে জানান, এলজিইডি ওসব রাস্তা তাদের মালিকানায় নিতে আবেদন করেছে। তারা যে আবেদন করলেই পেয়ে যাবে বিষয়টি সে রকম নয়।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল-রশীদ জানান, সড়কের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। নতুন সংজ্ঞার জন্য ইতোমধ্যেই ২-৩টি বৈঠক করা হয়েছে। এখনো কোনো সমাধান আসেনি। তবে কাজ অব্যাহত আছে। সড়কের মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি প্রধানত ইগোর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া যে সংস্থার দায়িত্বে নতুন সড়ক যাবে তাদের হিসাবে কিলোমিটার বেড়ে যাবে এবং কাজও বেড়ে যাবে। যারা মালিকানা হারাবে তাদের কাজ কমে যাবে। সেজন্যই কেউ মালিকানা ছাড়তে চায় না। তবে বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি সড়কে দেখা গেছে দুদিকে সড়ক ও জনপথের বড় রাস্তা, আর মাঝখানে এলজিইডির সরু রাস্তা। সেক্ষেত্রে জনগণ বড় রাস্তার যে সুফল পাওয়ার কথা তা পাচ্ছে না। এরকম ক্ষেত্রে মালিকানা হস্তান্তর করা প্রয়োজন। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।