সারিয়াকান্দির ভাঙ্গরগাছা প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাংগা-গড়া নিয়েই ব্যস্ত

সারিয়াকান্দির ভাঙ্গরগাছা প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাংগা-গড়া নিয়েই ব্যস্ত

রাজশাহী

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের ভাঙ্গরগাছা চর গ্রামে ভাঙ্গরগাছা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভাংগা-গড়া নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

বিদ্যালয়টি ভাংগাড় পর পুনরায় গড়তে গিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া দারুনভাবে ব্যহত হলেও যেনো কারই কিছু করার থাকছেনা।

স্থানীয়রা জানান, ভাঙ্গরগাছা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৮৪ বছর আগে নির্মাণ করেছিলেন স্থানীয়রা। ১৯৩৭ইং সালে স্থাপন করেছিলেন চরের স্থানীয় বিদ্যানুরাগীরা।

এরপর ভালই চলছিলো বিদ্যালয়টি। তবে ১৯৬০ইং সালে প্রথমে বিদ্যালয়টি যমুনা নদীর ভাংগনের কবলে পড়ে। সে থেকে বিদ্যালয়টি ভাংগা আর গড়া নিয়ে চরে লোকজনেরা ব্যস্ত হয়ে পরেন।

বিদ্যালয়টি এ পর্যন্ত কতবার ভাংগার পর গড়া হয়েছে তা বলতে পারেননি স্থানীয়রা কেউই। তবে ভাঙ্গরগাছা চরের ৫০ ঊর্ধ্বো বয়সের ফজলু মন্ডল বলেন, আমার জানা মতে বিদ্যালয়টি এ পর্যন্ত ৬ বার ভাংগা হয়েছে। আবার তা গড়া হয়েছে ৬ বার।

এভাবেই চলছে বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৯৭জন। এর মধ্য প্রাক্ প্রাথমিকে-২১, ১ম শ্রেণীতে-২০, ২য় শ্রেণীতে-১২, ৩য় শ্রেণীতে-১৭, ৪র্থ শ্রেণীতে-১৫ ও ৫ম শ্রেণীতে-১২ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়নরত রয়েছে। কথা হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মাছুদ রানার সাথে। তিনি বলেন, আমি বিদ্যালয়টিতে ৩ বছর পূর্বে যোগদান করেছি।

এর মধ্য বিদ্যালয়টি ২ বার যমুনা নদীর ভাংগনে বিলিন হওয়ার পর আবার ২ বার নতুন করে ঘর-দোর তুলেছি। এখন সেখানেই দুটি ছাপরা ঘরে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে আসছি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: গোলাম কবির বলেন, গত বছর ওই ভাঙ্গরগাছা চর গ্রামে ৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে টিন সেড একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল; কিন্তু এ বছর বর্ষার শুরুতেই সে চরটি সম্পূর্ণরূপে নদী গর্ভে বিলিন হয়।

সাথে বিদ্যালয়ের ভবনটিও যমুনার গর্ভে চলে যায়। পার্শ্ববর্তী জেগে ওঠা নতুন চরে নতুন রূপে ছাপরা ঘরে পাঠদান চালু রেখেছি। ভাংগা-গড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতে লেখা-পড়াতো ব্যহত হয়। ব্যবহত হলেও আমাদের করার কিছুই নেই। এভাবে চলে চরের স্কুলগুলোতে লেখা-পড়া।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য