অলিম্পিকে শেষ হলো বাংলাদেশের আরও একটি ব্যর্থ অধ্যায়

অলিম্পিকে শেষ হলো বাংলাদেশের আরও একটি ব্যর্থ অধ্যায়

খেলা

জাপানের টোকিওতে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্ট অলিম্পিক। গত ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এবারের আসর চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। তবে সেখানে বাংলাদেশের অধ্যায় ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ক্রীড়াবিদরাও কয়েকদিনের মধ্যে দেশে ফিরে আসবেন।

তবে প্রতিবারের ন্যায় এবারও একবুক হতাশা ও শূন্যতা নিয়ে ফিরে আসছেন ক্রীড়াবিদরা। প্রাপ্তি বলতে কেবল দেশের ইতিহাসে আরও একটি অলিম্পিকে অংশগ্রহণ। অথবা বলা যায়, আরও একটি শিক্ষা সফর কিংবা ব্যর্থতার গল্প।

টোকিং অলিম্পিকে যে কয়েকজন বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে ছেলেদের ৪০০ মিটার হিটে জহির রায়হান হয়েছেন ৪৭ জনের মধ্যে ৪৪তম। অথচ এর চেয়ে ভালো টাইমিং করার রেকর্ড রয়েছে তার। অলিম্পিকে গিয়েই খেই হারিয়ে ফেললেন যেন। অবশ্য তাকে দোষ দিয়েও লাভ নেই।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে যুগ যুগ ধরে চলতে থাকা ব্যর্থতার গল্পটাই যেন নতুন করে আবার লেখালেন ক্রীড়াবিদরা। তবে এর পেছনে দায় খেলোয়াড়দের না দিয়ে ফেডারেশনকে দিতে হবে। কারণ, তারা অলিম্পিকে সফলতা পাওয়ার জন্য কখনোই কোনো পদক্ষেপ নেন না। প্রতিবছর তাদের লক্ষ্য থাকে ‘বেড়ানো’ আর ‘অভিজ্ঞতা’ অর্জন।

এমনকি অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন না বাংলাদেশি কোনো ক্রীড়াবিদ। যদিও এবার সেই রেকর্ড ভেঙে সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছেন আর্চার রোমান সানা। অন্যদিকে, জহির রায়হান এক মাস আগেও জানতেন না তিনি যে টোকিওতে যাচ্ছেন। ফলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগটাই তো পাননি তিনি।

শুটিংয়ে দেশ সেরা শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকি এ নিয়ে দ্বিতীয়বার অলিম্পিকে গেলেন। কিন্তু ফলাফল আগের থেকেও ভয়াবহ। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে ৫০ জনের মধ্যে ২৫তম হলেও এবার হয়েছেন ৪৭ জনের মধ্যে হয়েছেন ৪১তম। পারফরম্যান্স কেবল নিচের দিকেই নামছে।

সাঁতারে আরিফুল ইসলাম ও জুনায়না আহমেদ নিজেদের ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং করলেও তা বলার মতো নয়। ৫০ মিটার ফ্রি–স্টাইলে আরিফুল হয়েছেন ৭৩ জনের মধ্যে ৫১তম এবং জুনায়না ৮১ জনের মধ্যে ৬৮তম। তাও লন্ডনে অনুশীলন করার কারণেই তাদের এই যা উন্নতি। দেশে অনুশীলন করলে সেটুকু্ও করতে পারতেন কিনা সন্দেহ।

টোকিং অলিম্পিক থেকে পাওয়া বলতে কেবল আর্চারিতে বাছাই পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে উঠা। মিশ্র ইভেন্টের নকআউটে হারলেও ১৬ দলে হয়েছে নবম। একক ইভেন্টে দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত গিয়েছেন রোমান সানা। অন্যদিকে, প্রথম রাউন্ডে হারলেও প্রতিপক্ষের সঙ্গে দিয়া সিদ্দিকীর পয়েন্টের ব্যবধান মাত্র এক। রোমান সানাও ১ পয়েন্টের ব্যবধানে হেরেছেন। যা ভবিষ্যতের জন্য আশার কারণ হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে নিতে হবে বৃহৎ পরিকল্পনা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য