ইরানি স্বাস্থ্যকর্মীর গলায় অলিম্পিকের সোনার পদক

ইরানি স্বাস্থ্যকর্মীর গলায় অলিম্পিকের সোনার পদক

খেলা

টোকিও অলিম্পিক গেমসে ইরানের শুটার জাবেদ ফরোঘি প্রথম সোনার পদক জয় করেছেন। তার পদক জয়ে সবচেয়ে বেশি খুশি ইরানের করোনা আক্রান্তরা। যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তারা একটু বেশি খুশি হয়েছিলেন। কারণ ৪১ বছর বয়সি এই শুটার জাবেদ ফরোঘি করোনা রোগিদের সেবা করতেন। তিনি একজন স্বাস্থ্যকর্মী। ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে অলিম্পিক গেমসের প্রথম দিনেই সোনার পদক জয় করে ইরানে সুখবর পাঠিয়েছেন।

জাপানে অলিম্পিক গেমসে যাওয়ার আগের দিনও জাবেদ ফরোঘি করোনা রোগীদের সেবা করেছেন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে কেটেছে। এমনকি, একটা সময় নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তখনই তার চোখেমুখে অন্ধকার। অলিম্পিক গেমসে যাওয়ার স্বপ্নটা পূরণ হবে না ধরে নিয়েছিলেন। অনুশীলনও করতে পারছিলেন না। ধরে নিয়েছিলেন অলিম্পিকের স্বপ্ন শেষ। তারপরও হার মানেননি এই নিশানাবাজ। করোনা নেগেটিভ হওয়ার পর বিছানা ছেড়ে পিস্তল হাতে অনুশীলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বাকিটা ইতিহাস। পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে সোনা জিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই বর্ষীয়ান শুটার।

রূপকথার এখানেই শেষ নয়। জন্মের পর থেকেই নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে জাবেদ ফরোঘিকে। হূদ্যন্ত্রের সমস্যার কারণে কোনোও খেলাতেই সুযোগ পেতেন না তিনি। এমনকি শুটিং অনুশীলনও করতে পারবেন না। সব কষ্ট বুকে চেপে নিশানা তাক করতে ক্লান্তি বোধ করেননি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাসপাতাল ভবনের বেসমেন্টেই শুরু করেন অনুশীলন। নাইট শিফট শেষ হলেই বেসমেন্টে গ্যারেজে অনুশীলন শুরু করতেন।

আশ্চর্যজনক ভাবে এর পর থেকে তার হূদ্যন্ত্রের সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। শুটিংয়ের প্রতি ভালোবাসা ও তার অদম্য চেষ্টা বিফলে যায়নি। দেশের অন্যতম সফল শুটার হিসেবে অলিম্পিকসে যোগ্যতা অর্জন করেন। টোকিওতে সোনার পদক জয়ের পর জাবেদ ফরোঘির মন্তব্য, ‘যে কোনো ক্রীড়াবিদেরই স্বপ্ন থাকে অলিম্পিকে পদক জয়। আমি কখনো কোনো কিছু সঙ্গে আপস করিনি। কর্মক্ষেত্রে নিজের কাজকেও কখনো অবহেলা করিনি। গত দুটো বছর করোনা আক্রান্তদের পাশে থেকে সুস্থ করে তোলার কাজ করেছি। সেবার কাজ করে অলিম্পিকের স্বপ্ন বুকে এঁকেছিলাম।’