বগুড়ার ধুনটে নিজের নবজাতক শিশুসন্তানকে হত্যার পর ল্যাট্রিনের ট্যাংকিতে ফেলে দেন মা

বগুড়ার ধুনটে নিজের নবজাতক শিশুসন্তানকে হত্যার পর ল্যাট্রিনের ট্যাংকিতে ফেলে দেন মা

রাজশাহী

বগুড়ার ধুনটে নিজের নবজাতক শিশুসন্তানকে হত্যার পর ল্যাট্রিনের ট্যাংকিতে ফেলে দেন মা আদুরী খাতুন। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার বিকেলে আদুরী খাতুনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলে সন্তান হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করার অপরাধে কেছেম নামে এক কবিরাজকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার ধুনট থানা হাজত থেকে বগুড়ার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে কবিরাজকে।

জানা গেছে, পারধুনট গ্রামের হোসেন প্রামাণিকের ছেলে অসীমের সঙ্গে সাত বছর আগে চান্দারপাড়া গ্রামের আয়তুল্লাহ্ মন্ডলের মেয়ে আদুরীর বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলের পর এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন আদুরী। কিন্তু শিশুটির ফুসফুসে ফুটো রয়েছে বলে ডাক্তার জানান। এরপর গত ১৬ জুলাই আদুরী তার এক মাস আট দিন বয়সী শিশুকে চিকিৎসা না করিয়ে বাবার বাড়ি চান্দারপাড়া গ্রামে চলে আসেন এবং বাচ্চাটিকে কবিরাজি চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী কবিরাজ কেছেমের শরণাপন্ন হন।

গত ১৭ জুলাই সকাল ৯টার দিকে শিশুটির বাবা অসীম, নানি চম্পা খাতুন ও মা আদুরী খাতুন কবিরাজের বাড়িতে গেলে কেছেম কবিরাজ তাদের কলাপড়া, ফিটকিরি পানি পড়া, তেলপড়াসহ তাবিজ দেন। এরপর বিকেল ৫টার দিকে আদুরী খাতুন কবিরাজের দেওয়া ফিটকিরি পানি নিজে খান এবং শিশুটিকে খাওয়ান। এরপর শিশুটি আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখন শিশুটি মারা গেছে ভেবে আদুরী খাতুন তার মায়ের বাড়ির ল্যাট্রিনের ট্যাংকির ঢাকনা খুলে শিশুটিকে সেখানে ফেলে দেন। এরপর শিশুকে জিনে নিয়ে গেছে বলে নাটক সাজান আদুরী। পরে স্থানীয় লোকজক অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৮ জুলাই বিকেলে ল্যাট্রিনের ট্যাংকি থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে তারা পুলিশে খবর দেন।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা অসীম বাদী হয়ে আসামির বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা করেন। এদিকে মামলা করার পর পুলিশ তদন্ত শেষে শনিবার শিশুটির মা আদুরীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সন্তান হত্যার দায় স্বীকার করেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা এবং ভুয়া চিকিৎসা দিয়ে প্রতারণা করার অপরাধে কবিরাজ কেছেম উদ্দিনকেও গ্রেঢতার করে পুলিশ।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, নিজের শিশুসন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করে শিশুটির মা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা ও কবিরাজকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।