দিনাজপুরে খাদ্য সংরক্ষনের কাজ এগিয়ে চলছে

দিনাজপুরে খাদ্য সংরক্ষনের কাজ এগিয়ে চলছে

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ শস্য ভান্ডারের অঞ্চল দিনাজপুর। দিনাজপুর জেলায় অন্যান্য শস্যের চেয়ে ধান, গম ও ভুট্রার ফলন ভাল হয়। সেই দিক থেকে এই বছরে এবার ঢাকা খাদ্য অধিদপ্তর থেকে খাদ্য শস্য সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করেছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিভাগের পরিদর্শক মোঃ হাবিবুর আলম জানান, এই মৌসুমে ধান গম ভুট্রা ও চাল গত ০১.০৫.২০২১ ইং তারিখ থেকে সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলবে ১৬.০৮.২০২১ ইং তারিখ পর্যন্ত। তবে ধান ও চালের লক্ষ্যমাত্রা অন্যান্য জেলা থেকে বেশী পরিমান নির্ধারন করা হয়েছে।

এই মৌসুমে প্রতি বারের মত খাদ্য শস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে খাদ্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর খাদ্য শস্যের মুল্য ও নীতিমালা নির্ধারন করে। এবার জেলায় বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার ১ শত ৫২ ম্রেটিক টন নির্ধারিত রয়েছে। ধান সংগ্রহে সরকার প্রতি কেজি মূল্য নির্ধারন করেছেন ২৭ টাকা। ১৮/০৭/২০২১ ইং তারিখ পর্যন্ত জেলায় ১৯ হাজার ১ শত ৩৮ দশমিক ৭ শত ৬০ ম্রেটিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। জেলায় ১৩ টি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র বীরগঞ্জ, বিরল ও সদর উপজেলার কৃষকরা অনলাইন এ্যাপসের মাধ্যমে সরাসরি গুদামগুলিতে ধান দিতে সক্ষম হয়েছেন এবং বাকী উপজেলার কৃষকরা আগের পদ্ধতিতে ধান দিচ্ছেন।

এ দিকে বোরো সিদ্ধ ও আতব দুই ধরনের চাউল সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারিভাবে প্রতি কেজি সিদ্ধ চাউলের মূল্য ৪০ টাকা ও প্রতি কেজি আতব চাউলের মূল্য ৩৯ টাকা নির্ধারিত আছে। সিদ্ধ চাউল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৯৬ হাজার ৩ শত ১৪ ম্রেটিক টন নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ১৮/০৭/২০২১ ইং তারিখ পর্যন্ত ৭১ হাজার ৮ শত ৯ ম্রেটিক টন সংগ্রহ করা হয়েছে অটো রাইসমিল ও হাসকিং মিল থেকে।

জেলায় এবার আতব চাউল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ৭ ম্রেটিক টন নির্ধারন আছে। এর মধ্যে ১৮/০৭/২০২১ ইং তারিখ পর্যন্ত ২ হাজার ৬ শত ২৬ ম্রেটিক টন সংগ্রহ করেছে। উল্লেখ যে, দিনাজপুর জেলায় মিলের সংখ্যা অটো রাইসমিল ১৯৩টি আর হাসকিং ১৬১০টি রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় যে পরিমান অটোরাইস মিল ও হাসকিং মিল রয়েছে তাদের পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা অনুসারে বরাদ্দ হয় এবং খাদ্য শস্য সংগ্রহ করা হয়। দিনাজপুর জেলায় ২৬টি খাদ্য শস্য সংরক্ষনাগার রয়েছে।

তার মধ্যে দিনাজপুর সদরে ২টি খাদ্য শস্য সংরক্ষনাগার রয়েছে। প্রতিটি উপজেলা থেকে কি পরিমান খাদ্য শস্য সংগ্রহ করা হবে তা ঢাকার খাদ্য অধিদপ্তর থেকে নির্ধারন করা হয়। খাদ্য অধিদপ্তর থেকে বন্টন করা খাদ্য শস্য সংরক্ষনে নিয়মনীতি মেনে চলছে কি না জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তা পর্যবেক্ষন করেন। দিনাজপুর সদরে খাদ্য শস্য সংরক্ষনে যে পরিমান নির্ধারন হয় তা সদরে দুইটি সংরক্ষনাগার সংগ্রহ করে। একটিতে ৬০% আরেকটিতে ৪০% খাদ্য শস্য সংগ্রহের পরিমান ধার্য আছে।

এল এস ডি গুদামের অফিস থেকে জানা যায়, দিনাজপুর পুলহাটে ন্থানীয় সংরক্ষনাগার ৬০% হারে এবারে খাদ্য শস্য সংরক্ষনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। খাদ্য শস্যের পরিমান হচ্ছে ধান ৪ শত মেট্রিক টন, বোরো সিদ্ধ চাউল ২৩ হাজার ২ শত ৯৫ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন এবং আতব চাউল ৩ হাজার ৫ শত ৭৮ দশমিক ৪ শত মেট্রিক টন নির্ধারন রয়েছে। এর মধ্যে ধান ১ শত ১২ দশমিক ২ শত ৪০ মেট্রিক টন, বোরো সিদ্ধ চাউল ১৪ হাজার ৯ শত ৩৩ দশমিক ৩ শত মেট্রিক টন এবং আতপ চাউল ৯ শত ৪৭ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য সংরক্ষন করেছে। এ দিকে সদর কেন্দ্রীয় সংরক্ষনাগারটি ৪০% হারে এবারে খাদ্য শস্য সংরক্ষনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন হয়েছে। খাদ্য শস্যের পরিমান হচ্ছে ধান ৬ শত ২৩ মেট্রিক টন, বোরো সিদ্ধ চাউল ১৩ হাজার ৯ শত ১৭ দশমিক ২ শত ৩০ মেট্রিক টন এবং আতব চাউল ১ হাজার ৬ শত ৫৫ দশমিক ১ শত ৬০ মেট্রিক টন নির্ধারন রয়েছে। এর মধ্যে ধান ১ শত ৩১ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন, বোরো সিদ্ধ চাউল ১০ হাজার ৫ শত ৫৩ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন এবং আতপ চাউল ৭ শত ৬৩ দশমিক ২ শত মেট্রিক টন খাদ্য শস্য সংরক্ষন করেছে।

দিনাজপুর জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস.এম সাইফুল ইসলাম মুঠো ফোনে জানান, জেলায় খাদ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিকমত এগিয়ে চলছে, সময়মত আমাদের খাদ্য শস্য সংরক্ষনের লক্ষ্যমাত্রা পুরুন হবে। তবে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এবং লকডাউনের ফলে খাদ্য শস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগছে। যে সব মিল মালিক চুক্তি অনুযায়ী সময়মত খাদ্য শস্য সরবরাহ করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য