ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক অপহরণচেষ্টা

ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক অপহরণচেষ্টা

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত এক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীকে অপহরণের পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে ইরানের চার নাগরিকের বিরুদ্ধে। ইরানের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওই সাংবাদিককে অপহরণচেষ্টার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত এক অভিযোগপত্রে ইরানের চার নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নিজেদের উদ্বেগের কথা জানায়। খবর আরব নিউজের।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ঘটনা দেশ ও দেশের বাইরে ইরানের সমালোচকদের চুপ করিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এইচআরডব্লিউর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের উপপরিচালক মাইকেল পেজ বলেন, কয়েক দশক ধরে ইরান দেশের বাইরে বসবাসরত সে দেশের সমালোচকদের চুপ করিয়ে দিতে হয়রানি, হুমকি দেওয়া এবং ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সে তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো আরও একজন ভিন্নমতাবলম্বীকে অপহরণ করার চেষ্টা।

যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিরা জানান, নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বসবাসকারী ইরানি বংশোদ্ভূত ওই সাংবাদিকের ওপর নজরদারি করতে গোয়েন্দা ভাড়া করা হয়। গোয়েন্দাদের কাছে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে পালিয়ে এসেছেন তিনি। এ ছাড়া তিনি একজন ঋণখেলাপি। অপহরণের পর নিউইয়র্ক থেকে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করে রাখা হয়েছিল।

পেজ বলেন, এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, ইরান কর্তৃপক্ষ নিঃসন্দেহে ভিন্নমত চুপ করিয়ে দেওয়া এবং দেশের বাইরে সমালোচকদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, যাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে তিনি হচ্ছেন ইরানি বংশোদ্ভূত সাংবাদিক মাসিহ আলিনেজাদ। তিনি ভয়েস অব আমেরিকার পারস্য ভাষা বিভাগে কাজ করেন।

মাসিহ অভিযোগ করেন, ইরানের কর্তৃপক্ষ তার পরিবারকে হয়রানি করছে এবং তাকে নানাভাবে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য টোপ দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ করার অভিযোগে গত বছরের জুলাইয়ে মাসিহের ভাই আলিকে পাঁচ বছরের জেল দিয়েছে ইরান। এটি ছাড়াও তাকে ‘সুপ্রিম লিডারকে অপমান’ করার অভিযোগে দুই বছর এবং ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগে এক বছরের জেল দেওয়া হয়।

আলির আইনজীবী বলেন, আলি আলিনেজাদের শুনানিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল মাসিহ আলিনেজাদের কার্যক্রম এবং সাংবাদিকতার বিষয়।

মূলত মাসিহকে কাবু করতে কর্তৃপক্ষ তার ভাইকে ‘শিকার’ বানিয়েছে বলে অনেকের ধারণা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য