ঠাকুরগাঁওয়ে পাট নিয়ে ব্যস্ত কৃষকেরা

ঠাকুরগাঁওয়ে পাট নিয়ে ব্যস্ত কৃষকেরা

রংপুর

ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বত্রই এখন পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার দৃশ্য চোখে পরে। তবে বর্ষার ভরপুর মৌসুম হওয়ায় প্রয়োজনমত বৃষ্টির পানি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা। প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী বর্ষার এ সময়টায় ছোট ছোট খাল-বিল, পুকুর, নদী-নালায় পানি থাকে ভরপুর। কিন্তু এ বছর পানি খুবই কম হচ্ছে। এতে কাঁচা পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরেছেন পাট চাষিরা।

সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের কৃষক রাশেল জানান, ৩ বিঘা (১৫০ শতক) জমিতে প্রতি বছরের ন্যয় এ বছরও পাট চাষ করেছেন। পাট জমি থেকে কেটে রাস্তার ধারে স্তুপ করে রেখেছেন। তবে পানি কম থাকায় কিভাবে তা জাঁগ দিবেন সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রত্যেক বছর এ সময়টাতে বর্ষার পানিতে খালবিল সব পূরণ থাকে, তবে এ বছর বৃষ্টি হচ্ছেনা বললেই চলে। সদর উপজেলার জামালপুর, রহিমানপুর, আউলিয়াপুর, আখানগর, গড়েয়া, রুহিয়া, চিলারংসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ পাট চাষি পানির অভাবে পাট জাঁক দিতে পারছেন না। আবার অনেকে ছোট খাটো খালবিল ও পুকুরে পানি ঢুকিয়ে পাট জাঁক দেওয়ার চেষ্টা করলেও পানি ২-১ দিনের বেশি থাকছে না, শুকিয়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও জেলার প্রায় সর্বত্রই। এ অবস্থাতে পাট নষ্ট হওয়ার আশংকায় রয়েছেন তারা।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর জেলায় ৬ হাজার ৮১৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ২৯২ হেক্টর জমি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৫৯ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টন। চাষিরা ইতোমধ্যে কিছু পাট কেটে তা রাস্তার ধারে ও জমিতে স্তুপ করছেন। আবার অনেকে পাট কাটা থেকে বিরত আছেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গিলাবাড়ী গ্রামের কৃষক নুরল ইসলাম বলেন, গম কাটার সেই জমিতে পাটের আবাদ করেছি। কাঁচা পাট প্রক্রিয়ার জন্য প্রধান উৎস হচ্ছে পানি। সাধারণত খালের পানিতে অথবা পুকুরের পানিতে পাট ডুবিয়ে রাখতে হয় ১২-১৫ দিন বা তার থেকে কয়েকদিন বেশি। কিন্তু এ বছর বৃষ্টির পানি না থাকায় সমস্যায় পরেছি।

সদর উপজেলার ফাড়াবাড়ি এলাকার পাটচাষী মামুন ইসলাম বলেণ, পাট চাষ করতে অনেক শ্রমিক খরচ হয়েছে। পানির অভাবে পাট নষ্ট হচ্ছে এতে অনেক লোকশান হতে পরে। প্রয়োজনমত বর্ষার পানি না পেলে গভীর নলকূপগুলো কয়েকদিনের জন্য ফ্রি করে দেওয়া হলে আমাদের মত কৃষকদের উপকার হতো।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানান, পাট চাষের জন্য ঠাকুরগাঁও একটি আদর্শ জেলা। জেলায় পাটের আবাদ বেড়েছে। উৎপাদনও ভাল হয়েছে। তবে কিছু উচু এলাকায় পানি কমে যাওয়ায় পাট চাষিরা কিছুটা সমস্যায় পরছেন। আশা করি বৃষ্টি হলে চাষিদের পাট পঁচানোর কাজটি সহজ হলে তাদের সমস্যার সমাধান হবে এবং চাষীরা পাটের ভাল দাম পাবেন বলে প্রত্যাশা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য