আসছে কোরবানির ঈদ, ব্যস্ততা বেড়েছে পঞ্চগড়ের কামার পল্লীগুলোতে

আসছে কোরবানির ঈদ, ব্যস্ততা বেড়েছে পঞ্চগড়ের কামার পল্লীগুলোতে

রংপুর

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ আর হাতে গোনা কয়েকদিন পরই মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব কোরবানির ঈদ। লডকাউন শিথিলের পর দেশব্যাপি এখন পশু কেনাবেচা নিয়ে ব্যস্ত সবাই। আর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে হাতুড়ির টুং টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পঞ্চগড়ের কামার পল্লী। মাংশ কাটা আর চামড়া ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত দা, ছুরি, বটি, চাপাতিসহ ধারালো যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পঞ্চগড় জেলার কামার পল্লীর শিল্পীরা।

কোরবানীর ঈদ মৌসুমে চাহিদা বেশি থাকায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। বছরের এই সময়ই তাদের কাজের চাপ বেশি থাকে। বিক্রিও হয় বেশি। তবে দেশে মহামারি করোনার প্রভাব, প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, কয়লা ও লোহার মূল্য বেশি এবং বিদেশ থেকে স্টীলের যন্ত্রপাতি আমদানি করায় দেশীয় তৈরিকৃত পণ্য সামগ্রীর সঠিক বিক্রয় মূল্য পাচ্ছেন না তারা। ফলে আধুনিকতার ছোঁয়ায় রুগ্ন হয়ে পড়েছে কর্মকারদের জীবন জীবিকা।

কোরবানির গরু কেনার সাথে সাথে এসব প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনতে কামার পল্লীতে ভিড় করছেন মানুষ। গরু ছাগল জবাই ও মাংশ কাটা এবং চামড়া ছড়ানোর জন্য দা, ছুরি, বটি, চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার ধুম পড়েছে। লাভ কম হলেও বিক্রি বেশি হওয়ায় খুশি কর্মকাররা। ৫০ বছর ধরে এই পেশায় আছেন আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আধুনিক যুগে বাজারে এখন অত্যাধুনিক দা, ছুরি, চাপাতি পাওয়া যাচ্ছে। তাই আমাদের তৈরী জিনিষ এখন কম চলে।

শহরের মানুষ এসব না কিনলেও গ্রামের মানুষ এসব কিনে বলেই আমরা চলছি কোন মতে। দিনে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা রোজগার দিয়ে ৬ জনের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগের মত শরীরও এখন চলেনা। পঞ্চগড় জেলা শহরের কামার পট্টির কর্মকার নাজমুল ইসলাম বলেন, আগের মত আর ব্যবসা নেই। সব কিছুর মুল্য বৃদ্ধি হওয়ায় পোষাতে না পেরে অনেকেই পেশা ছেড়ে চলে গেছে। তিনি বলেন, সরকারি বেসরকারিভাবে সুদমুক্ত ঋণ পেলে পৈতৃক এ পেশায় থেকে দুমুঠো খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে চান পঞ্চগড়ের কর্মকাররা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য