রাজশাহীর বাগমারায় কচু চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষক

রাজশাহীর বাগমারায় কচু চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষক

রাজশাহী

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই কৃষকরা কচু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন বলে জানা গেছে। লতি কচু, স্থানীয় ভাষায় খাবার কচু বা কুঁড়ি কচু এবং মুখি কচু উভয়েরই কম বেশী চাষ করেছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় কৃষকরা কচু বিক্রি করে অধিক লাভবান হচ্ছে। তবে কচু চাষে পরিশ্রম বেশী হলেও বাজারদর ভাল থাকায় কৃষকরা আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসূমে বাগমারার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভা এলাকায় ২২০ হেক্টর জমিতে মুখি কচু, ১০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় ভাষায় খাবার কচু এবং ১ হেক্টর জমিতে লতি কচুর চাষ করা হয়েছে। আগাম উৎপাদন করায় অনেক কৃষক বাজারে বিক্রি করে বেশী দর পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। গত প্রায় দশ বছর থেকে বানিজ্যিক ভাবে কচুর চাষ বেড়েছে। অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা কচু চাষে আগ্রহী হয়েছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলার হাট-বাজারে আগাম উৎপাদন করা কচু প্রতি কেজি ৩০/৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলোকনগর, শিকদারী, জাতাপুকুর, বীরকুৎসা, একতারিয়া, ভাগনদী, তালঘরিয়া, গোয়ালকান্দি, ভবানীগঞ্জ, তাহেরপুর, মোহনগঞ্জ, মাদারীগঞ্জ, কালিগঞ্জ, মচমইল, হাটগাঙ্গোপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে আগাম চাষ করা বিভিন্ন ধরনের কচু বিক্রি হতে দেখা গেছে। পুরোপুরি এখনো জমি থেকে উত্তোলন আরম্ভ না হলেও কিছু অগ্রিম চাষ করা জমি থেকে কচু তুলে তা বাজারে বিক্রি করছে কৃষক। অল্প দিনের মধ্যেই পুরোদমে কচু উত্তোলন আরম্ভ হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। অন্যান্য সবজি তরকারীর চেয়ে কচুর কদর অনেক বেড়ে যাওয়ায় এর চাষাবাদ বেড়েছে সব গ্রামেই।

হামিরকুৎসা ইউনিয়নের রাঁয়াপুর গ্রামের বিশু প্রামানিক জানান, আগাম চাষ করে লতি কচু বাজারে বিক্রি করে তিনি লাভবান হচ্ছেন। প্রায় বিশ বছর ধরে তিনি কচুর চাষ করে আসছেন বলে জানিয়েছেন। একই ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, অধিক লাভের আশায় এ মৌসূমে আগাম কচু চাষ করা হযেছে। আগাম কচু তিনি ক্ষেত থেকে তুলে বাজারে বিক্রি আরম্ভ করেছেন। ৩৫/৪০টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। তবে লতি কচু ও অন্যান্য কচুর দাম প্রায় একই বলে জানা গেছে। বর্তমান বাজার দর বেশী হওয়ায় কচুতে লাভবান হওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন।

শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের কচু চাষী মুঞ্জুর রহমান ও শ্রী অভিরাম বলেন, অধিক লাভের আশায় কচু চাষ করা হয়েছে। মুঞ্জুর রহমান দশ কাঠা এবং অভিরাম এক বিঘা জমিতে কচু চাল করেছেন। কৃষকরা জানান, অন্যান্য তরকারীর তুলনায় কচু চাষে সার খরচ অনেক কম লাগে। জৈব সার পরিমান মত দিলেই চলে। রাসায়নিক সারের পরিমান কম দিতে হয় বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। কৃষকরাও সার কম প্রয়োগে কচুচাষ করা যায় বলে জানান। তবে জমির চাহিদা অনুযায়ী সেচ দিয়ে কম খরচে বেশী উৎপাদন করা যায়। কৃষকরা জানান, কম পরিশ্রমেই কচুর চাষাবাদ করা সম্ভব। গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, ভাল তরকারী হিসেবে কচু বাজারে কিনতে অনেক দাম হওয়ায় নিজের জমিতে লতি কচু চাষ করে বাজার জাত আরম্ভ করেছি। ভাল দাম পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বানিজ্যিক ভাবে কচুর চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। কচুর বাজার দর বেশী থাকায় তরকারী হিসেবে অন্যের জমি বন্দোবস্ত নিয়েও কৃষকরা কচু চাষ করছেন। কৃষকরা জানান, কাঠা প্রতি কচুর উৎপাদন সন্তোষ জনক হওয়ায় অধিক লাভবান হতে পারবেন বলে আশা করছেন। কচুর উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় অধিক লাভের জন্য কৃষক বানিজ্যিক ভাবে কচুর চাষাবাদ করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, কম খরচে অধিক লাভবান হওয়া যায় বলে কৃষকরা বানিজ্যিক ভাবে বিভিন্ন প্রকার কচু উৎপাদন করছেন। অধিক লাভ হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা অন্যান্য তরকারীর মত কচুর চাষাবাদ বাড়িয়েছেন। পরিশ্রম একটু বেশী হলেও আর্থিক ভাবে লাভবান হন কৃষকরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য