ভিন্ন টিকার দুই ডোজ নেওয়ার বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ভিন্ন টিকার দুই ডোজ নেওয়ার বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আন্তর্জাতিক

ব্যক্তি উদ্যোগে বা সিদ্ধান্তে ভিন্ন কোম্পানির করোনাভাইরাসের টিকার মিশ্রণের বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী ড. সৌম্যা স্বামীনাথান। এমন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের। সোমবার এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন।

করোনা মহামারি ঠেকাতে প্রথমবার এক কোম্পানির ও দ্বিতীয়বার ভিন্ন কোম্পানির মিশ্র টিকা দেওয়া যায় কিনা, তা নিয়ে ইতোমধ্যে গবেষণা শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকরা। অনেক গবেষকেরই দাবি, দুটি আলাদা সংস্থার টিকা নিলে একই টিকার দুই ডোজের তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হয়। জার্মানিতে মিশ্র টিকা নেওয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে। দেশটির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল নিজে দুটি ভিন্ন সংস্থার টিকা নিয়েছেন সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে থাইল্যান্ড ভিন্ন দুটি টিকার ডোজ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার (১২ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে থাই স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, দেশটিতে যারা প্রথম ডোজ হিসেবে সিনোভ্যাকের টিকা নিয়েছেন তাদের দ্বিতীয় ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া হবে।

বুস্টার ডোজের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. সৌম্যা বলেন, এই প্রবণতা কিছু মাত্রায় বিপজ্জনক। বিভিন্ন দেশের মানুষ যদি নিজেরাই দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজ কখন ও কারা নেবে তা নির্ধারণ করতে শুরু করেন তাহলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে।

পরে টুইট বার্তায় বিশ্ব স্বাস্থ্য প্রধান বিজ্ঞানী বলেন, ব্যক্তির নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মিশ্রণ নিয়ে বিভিন্ন টিকার গবেষণা হচ্ছে, ইমিউনোজেনিসিট ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে খুব কম তথ্য রয়েছে। গবেষণা চলছে এবং ফলাফলের জন্য আমাদের অপেক্ষা করা উচিত। হয়ত এটি ভালো প্রবণতা হতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের যে তথ্য আছে তা অনুসারে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার পর ফাইজারের টিকা নেওয়া যেতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এখনও টিকার কোনও ডোজ না পেলেও উন্নত কয়েকটি দেশ বুস্টার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই বিষয়ে সৌম্য স্বামীনাথান বলেন, চারটি দেশ বুস্টার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে এবং আরও কয়েকটি দেশ বিবেচনা করছে। যদি উচ্চ-মধ্য আয়ের ১১টি দেশ তাদের জনগণের জন্য বুস্টার ডোজের পরিকল্পনা করে তাহলে অতিরিক্ত ৮০ কোটি ডোজ টিকা লাগবে।

তিনি জানান, বুস্টার ডোজ লাগবেই, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। বিশেষ করে, অল্প কিছুদিন আগে টিকা নেওয়ার পর। বুস্টার ডোজের বদলে এসব টিকা কোভ্যাক্স উদ্যোগে দেওয়া প্রয়োজন যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বয়স্ক ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষেরা করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকে।

জুন মাসে সংস্থাটির টিকাবিষয়ক কৌশলগত উপদেষ্টা গ্রুপ জানিয়েছিল, প্রথমবার অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিলেও দ্বিতীয় ডোজের সময় তা পাওয়া না গেলে ফাইজারের ডোজ নেওয়া যাবে।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও ফাইজার টিকার মিশ্রণ নিয়ে। সম্প্রতি ট্রায়ালটি মডার্না ও নোভোভ্যাক্স টিকাতেও সম্প্রসারিত হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য