করোনায় রংপুর বিভাগে মৃত্যু ১৪ জন, দিনাজপুরে আক্রান্ত সংখ্যা সর্বচ্চ

রংপুর

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. জাকিরুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মানায় সংক্রমণ বাড়ছে। সীমান্ত এলাকা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট এবং বিভাগীয় শহর রংপুরে করোনা সংক্রমণ আশাঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

তিনি জানান, দিনাজপুরে শনাক্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৬২৫ জন, রংপুরে সাত হাজার ৫৩৮ জন এবং ঠাকুরগাঁওয়ে চার হাজার ৮৫৮ ও কুড়িগ্রামে দুই হাজার ৪৫৮ জন। রংপুর বিভাগে করোনা সংক্রমণ, শনাক্ত ও মৃত্যুর কোনও হ্রাস টানা যাচ্ছে না।

রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনা সংক্রমিত আরও ৫৮৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গেল ১২ দিনে বিভাগে করোনায় প্রাণ হারাল ১৮০ জন। বিভাগে শনাক্তের হার কমে ২৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার ৪, দিনাজপুরের ৪ জন, রংপুরের ৪ ও নীলফামারীর ২ জন করে রয়েছেন।

একই সময়ে বিভাগে ১ হাজার ৯৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৮৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরের ১৩১, রংপুরের ১২১, ঠাকুরগাঁওয়ের ৮৪, পঞ্চগড়ের ৬৫, গাইবান্ধার ৫৮, কুড়িগ্রামের ৫৭, নীলফামারীর ৫৩ ও লালমনিরহাটের ১৯ জন রয়েছে।

নতুন করে মারা যাওয়া ১৪ জনসহ বিভাগে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯৯। এর মধ্যে দিনাজপুর জেলার ২৩৬ জন, রংপুরের ১৪০, ঠাকুরগাঁওয়ের ১৩১, নীলফামারীর ৪৮, লালমনিরহাটের ৪৩, কুড়িগ্রামের ৩৫, পঞ্চগড়ের ৩৩ ও গাইবান্ধার ৩৩ জন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩৫১ জন।

এ ছাড়া নতুন শনাক্ত ৫৮৮ জনসহ বিভাগে ৩৪ হাজার ৫২২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দিনাজপুর জেলায় ১০ হাজার ৬২৫, রংপুরের ৭ হাজার ৫৩৮, ঠাকুরগাঁওয়ের ৪ হাজার ৮৫৮, গাইবান্ধার ২ হাজার ৮৩৮, নীলফামারীর ২ হাজার ৫৬৬, কুড়িগ্রামের ২ হাজার ৪৫৮, লালমনিরহাটের ১ হাজার ৮৯১ ও পঞ্চগড়ের ১ হাজার ৭৪৮ জন রয়েছেন।

করোনাভাইরাস শনাক্তের শুরু থেকে মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮১৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বিভাগের আট জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে দিনাজপুর, রংপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায়। এ ছাড়া ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলোত বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু।

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার বিকল্প নেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য