খানসামা উপজেলায় প্রথমবারের মত মাদ্রাজী জাতের উন্নত ওলকচুর চাষ

খানসামা উপজেলায় প্রথমবারের মত মাদ্রাজী জাতের উন্নত ওলকচুর চাষ

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ উত্তরের জেলা দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় বাড়ির আশেপাশে প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে ওঠা স্থানীয় জাতের ওলকচু চাষ করে আসছেন অনেক কৃষক।

এবার মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কন্দ তথা কচু জাতীয় ফসলের সংযোজন ঘটাতে এবং নিরাপদ ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে উপজা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ও কন্দাল ফসল উনয়ন প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় প্রথম বারের মত মাদ্রাজী জাতের উন্নত ওলকচু চাষ হয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাদ্রাজি জাতের ওলকচু চাষ বিষয়ে কৃষকের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরেন। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে এবছর উপজেলার ১২ জন কৃষক মোট ২৪০ শতক জমিতে ওলকচু চাষ হয়েছে।

ভাবকী গ্রামের কৃষক ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, আগে তো বাড়ির আশপাশে দেশি জাতের ওলকচু চাষ করতাম। এবার মাদ্রাজী জাতের ওলকচু লাগিয়েছি। মাদ্রাজী ওলের ফলন ও গুণাগুণ বিষয়ে জানতে পেরে কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করেছি। ২০ শতক জমিতে চাষ, নিড়ানী ও অন্যান্য বাবদ এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ছয় হাজার টাকা। ফসল তোলা পর্যন্ত আরও কিছু খরচ হবে। আশা করি আগামি ২-৩ মাসের মধ্যে ওলকচু সংগ্রহ করা যাবে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এম জি এইচ কামরুজ্জামান বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে বীজ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে আমরা সবসময় তাদের পরামর্শ দিচ্ছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা.নুর ফারিহা আইরিন বলেন,পুষ্টিগুণের দিক থেকে ওলকচুতে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রোটিন, থায়ামিন, লোহা, আঁশ, নিকোটিনিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়া, ভিটামিন রয়েছে। তাই ওলকচু খেলে পেটের পীড়া, ফোঁড়া, হাঁপানি, গোদ, অর্শ বাত, রক্তের ব্যাধি, প্লীহার স্ফীতি প্রভৃতি নিরাময় হয়। আর গাছের উপরের অংশ কানের ব্যথা, গলা ফুলা, ফুসকুড়ি, কলেরা, উদরাময়, পোকামাকড়ে কামড় ইত্যাদি অসুখ সারাতেও ব্যবহার হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার বাসুদেব রায় জানান, ওল একটি লাভজনক কন্দ জাতীয় সবজি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় উন্নত জাতের ওলকচু চাষ করে অনেকে ভাগ্য বদলেছেন। আশা করি খানসামা উপজেলার কৃষকরা ভালো ফলন এবং ভালো বাজার মূল্য পাবেন। এই অনুযায়ী কৃষি দপ্তরের কর্মীরা মাঠে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য