কুড়িগ্রামে বেড়েছে কামারদের কর্ম ব্যস্ততা

কুড়িগ্রামে বেড়েছে কামারদের কর্ম ব্যস্ততা

রংপুর

পবিত্র ঈদুল আজহা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে কামারদের কর্ম ব্যস্ততা বেড়েছে। কামারের দোকানগুলোতে সারাদিন টুং-টাং শব্দ বিরাজ করছে। চলমান কারোনা পরিস্থিতির মাঝেও কোরবানির পশু জবাই ও গোস্ত কাটার হাতিয়ার তৈরি ও মেরামতের কর্মযজ্ঞ চলছে।

একেকটি কামারের দোকানে দুইজন কারিগর দিয়ে হাতিয়ার তৈরি মেরামতের কারণে এখানে লকডাউনে প্রশাসনিক নজরদারি শিথিল থাকছে। আগের মতো কামারের ব্যবসা সব সময় না হলেও প্রতি বছরের ধানের মৌসুম, পাটের মৌসুমে ও কোরবানির ঈদে কামাররা ব্যস্ত সময় পার করে থাকেন। ধান কাটার কাঁচতে, পাটের সময় পাট কাটার বেকি, কোরবানির ঈদে ছুরি, দা, কুড়াল তৈরি ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত থাকেন কামাররা।

কামারদের কর্ম ব্যস্ততা দেখা গেছে ফুলবাড়ী উপজেলার ফুলবাড়ী বাজার, গংগারহাট বাজার, খড়িবাড়ী বাজার, বালারহাট বাজার, বালারহাট বাজারে। এসব বাজারের মধ্যে ফুলবাড়ী বাজারে ২টি, গংগারহাট বাজারে ৫টি, খড়িবাড়ী বাজারে ২টি, বালারহাট বাজারে ৬ টি কামারের দোকানে দেখা গেছে কর্ম ব্যস্ততা।

করোনাকালীন লকডাউনে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে কোরবানির পশু জবাই ও গোস্ত কাটার হাতিয়ার তৈরি ও মেরামতের বায়না নিয়েই হাতিয়ার ডেলিভারির সময় তারিখ জানিয়ে গ্রাহকদের দোকান থেকে বিদায় দিচ্ছেন। পরে দুইজন কারিগরের মাধ্যমে বায়নাকৃত হাতিয়ার তৈরি ও মেরামত করা হচ্ছে। কামারের দোকানে কেউ কাঠের কয়লায় আগুন দিয়ে সেই আগুনে লোহা গলাতে কাজ করছেন।

আবার কেউ গলে যাওয়া লোহা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাতিয়ার তৈরির উপযোগী করছেন। কেউবা কোরবানির পশু জবাই করার ছুরি ধার করছেন। এখানে কোরবানির পশু জবাই ও গোস্ত কাটার ব্যবহৃত হাতিয়ারগুলোর মধ্যে রয়েছে বড় ছুরি, ছোট ছুরি, বটি, ছোট-বড় দা ও কুড়াল। একটি হাতিয়ার তৈরি করতে লোহা অনুযায়ী দাম নেয়া হচ্ছে।

পাকা লোহার তৈরি হাতিয়ারের ধারালো হওয়ায় এ লোহা থেকে তৈরি ছুরি, দা, বা কুড়ালের আকার ভেদে ১০০, ২৫০, ৫০০, ১০০০ এমনকি ৫০০০ টাকা পর্যন্ত মূল্য নেয়া হচ্ছে। তবে একটি পুরাতন হাতিয়ার মেরামত ও ধারালো করতে নেয়া হচ্ছে ১০০ টাকা করে।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ ইব্রাহীম খলিল জানান, ছুরি দিয়ে কোরবানির পশু জবাই করার সময় অসাবধানতা বশত ছুরি হাড়ে লাগে। এতে ছুরি ধারালো অংশ ভেঙে বা বেকে যায়। এটি মেরামতের জন্য কামারদের শরণাপন্ন হতে হয়।

ইমাম মিজানুর রহমান জানান, কোরবানির পশু জবাই করার জন্য ধারালো ছুরি ব্যবহার করতে হয়। কোরাবানির ঈদের আগে অনেক সময় ছুরির মুখ আরো ধারালো করতে কামারের কাছে যেতে হয়।

স্থানীয় কামার আব্দুর রহিম জানান, কামারের ব্যবসা আগের মতো নেই। এখন কাঠের কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় তেমন লাভ হচ্ছে না। তবে কোরবানির ঈদে গ্রাহক তুলনামূলক বেশি পাচ্ছি। এতে হাতিয়ার তৈরি ও মেরামতে খরচ বেড়েছে। আগে এক কেজি কয়লা ২-৩ টাকায় পাওয়া যেতো। এখন সেই কয়লার দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। পাওয়াটাও মুশকিল। তেলের ছোট্ট একটিন টিন ভর্তি পরিমাণ কাঠের কয়লা কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকায়। একটি টিনের কাঠের কয়লা দিয়ে ২-৩ টি হাতিয়ার কোনোমতে তৈরি করা যাচ্ছে।

অপর কামার এরশাদুল হক বলেন, আগের মতো ব্যবসা না হলেও প্রতি বছরের ধানের মৌসুম, পাটের মৌসুমে ও কোরবানির ঈদে ব্যস্ত সময় পার করে থাকি। এবার কোরবানির ঈদে বড় ছুরি, ছোট ছুরি, বটি, ছোট-বড় দা, কুড়াল তৈরি ও মেরামত করছি। ছুরি, দা, বা কুড়ালের আকার ভেদে ১০০, ২৫০, ৫০০, ১০০০ এমনকি ৫০০০ টাকা পর্যন্ত তৈরি মূল্য নেয়া হচ্ছে। তবে একটি পুরাতন হাতিয়ার মেরামত ও ধারালো নিচ্ছি ১০০ টাকা করে। প্রতিদিন ৮-১০ হাতিয়ার তৈরি ও মেরামতে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।

কামার গোলাম মোস্তফা বলেন, কলেজ পর্যায়ে লেখাপড়া করে বাপ-দাদার কামারি ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছি। এ ব্যবসা থেকে বাবা, মাসহ ৫ সদস্যের ভরণপোষণ করছি। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দোকানে কর্ম ব্যস্ততা বেড়েছে। দোকান থেকে দূর-দূরান্তের মানুষ কোরবানির পশু জবাইসহ গোস্ত কাটতে নানা ধরণের হাতিয়ার তৈরি ও মেরামত করে নিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য