অনুমতি পেলেই বাংলাদেশে টিকা উৎপাদন শুরু করবে চীন

বাংলাদেশে টিকা যৌথ উৎপাদনে প্রস্তুত চীন

জাতীয়

সরকারের অনুমতি পেলেই চীন বাংলাদেশে যৌথ টিকা উৎপাদন শুরু করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের মিনিস্টার কাউন্সিলর ও ডেপুটি চিফ অব মিশন ইয়ান হুয়ালং।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে টিকার যৌথ উৎপাদন শুরু করতে চায় চীন। টিকার যৌথ উৎপাদনে প্রস্তুত চীন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনুমতি পেলে চীন টিকা উৎপাদন শুরু করবে।

চীনের ক্ষমতাসীন দল চায়না কমিউনিস্ট পার্টির শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই–অ্যাবকা আয়োজিত ভার্চুয়াল সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফেরার ব্যাপারে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস কাজ করছে জানিয়ে ইয়ান হুয়ালং বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশের শিক্ষার্থীরাই এ অসুবিধার সম্মুখিন হচ্ছে। এখনই অন্য কোনো দেশের শিক্ষার্থীদেরকে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এটি কেবল বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নয়, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য শিক্ষার্থীরাও ফিরতে পারছে না। কেউই চীনে যেতে পারছে না। করোনা যেভাবে আঘাত করছে তাতে আমি খুব দ্রুতই এ অবস্থার পরিবর্তনের ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারছি না। এমন মহামারি এর আগে আমরা কখনো দেখিনি। কাজেই প্রতিটি দেশই ব্যাপক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। চীন ও চীনা দূতাবাস কাজ করছে। যখনই ভালো সময় আসবে চীনা টিকা ও চীনে ফেরার ব্যাপারে বাংলাদেশি বন্ধুরা ও শিক্ষার্থীরা অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারনিউমেরারি অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, চীন ১৯৪৯ সাল থেকে অন্তত ১৯৫২ সাল পর্যন্ত কীভাবে ভেতর থেকে বদলে গেছে- তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সুযোগ আছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সব যুগেই সম্পর্ক ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ যখন বাংলার স্বাধীন সুলতান ছিলেন, বিশেষ করে ১৩৯৩ সাল থেকে শুরু করে ১৪০৮ সাল পর্যন্ত তিনি চীনের সঙ্গে বাংলার সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, নিঃসন্দেহে চীন ব্যাপক বদলে গেছে। চীন সার্বিকভাবেই বিশ্বের এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে। আর যখন একটি দেশ অর্থনীতিতে শক্তিশালী হয়, তখন সেই দেশ সুপারপাওয়ারে পরিণত হয়।

অ্যাবকার প্রেসিডেন্ট ও চীনে নিযুক্ত সাবেক বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, পুরো বিশ্ব দরবারেই পদ্ধতিগত নানা অগ্রগতি অর্জন করেছে চীন। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও চীন দ্রুত গতিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন লক্ষ্য করলে দেখবেন চীন এখন ২০৪৯ সালের মধ্যে বিশ্বে একটি ‘মডারেটলি ডেভেলপড’ দেশের মর্যাদা অর্জন করতে চায়।

চীন সামগ্রিকভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করে বিশ্বে নজির স্থাপন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির এই সফলতার পেছনের গোপন শক্তি হলো পরিস্থিতির সঙ্গে সমন্বয় করে তারা বারবার নানা সংস্কার করেছে। তারা সব সময় সাধারণ মানুষের স্বার্থ সবার আগে বিবেচনা করে বলেই এত দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

অ্যাবকার সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাহাবুল হকের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন- অ্যাবকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাইনুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক ও ওরিয়ন ডেন্টাল অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ঢাকার হেড অব অপারেশনস মো. আবু কাউসার স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাস্ট হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ড. নাজমুস সাকিব।

সমাপনী বক্তব্যে অ্যাবকা প্রেসিডেন্ট মুন্সি ফয়েজ আহমেদ আরও বলেন, চীনের ক্ষমতাসীন দল সিপিসি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সিপিসি অসামান্য অবদান রাখছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের এক নম্বর বন্ধু চীন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য