বীরগঞ্জে কর্মহীন নারীদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে পরচুলা শিল্প

বীরগঞ্জে কর্মহীন নারীদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে পরচুলা শিল্প

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ কর্মমুখি হয়ে পড়েছে পিছিয়ে পড়া সুবিধা এবং কর্মহীন নারীরা। তাদের এখন কাজের সন্ধানে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হয় না। কাজ কর্মহীন নারীদের খুজছে। গ্রামে গ্রামে পরচুলা তৈরীর কারখানায় কাজ হাজার হাজার নারীরা করছে। অনেক মেয়েরা কম বেতনের কাজ ছেড়ে দিয়ে পরচুলা তৈরীর কারখানায় কাজ নিচ্ছে।দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় পরচুলা শিল্পের প্রধান কার্যালয়।

প্রধান কার্যালয়ের আওতায় বীরগঞ্জ উপজেলার ৮নং ইউনিয়নের কালাপুকুর গ্রামের আঃ রাজ্জাকের ৭টি, দুলাল মিয়ার ৬টি কারখানা চলছে। এই দুজনের তত্তাবধানে মোট ১৩টি পরচুলা তৈরির কারখানা। কারখানা গুলোতে কাজ করছে ১ হাজার ৮শত নারী শ্রমিক। যারা সর্বনিম্ন ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করছে। বীরগঞ্জ উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় তৈরী পরচুলা বা চুলের ক্যাপ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন কারী এই ক্ষুদ্র শিল্পটি গ্রামীণ কর্মহীন নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখছে।

বিশ্বে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পরচুলা বা চুলের ক্যাপের বাজার।কারখানার পরিচালক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমরা মেয়েদের এনে প্রশিক্ষন দিয়ে আমাদের কারখানায় কাজ করার উপযোগি করে গড়ে তুলি, কাজ শিখতে একটি মেয়ের সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ দিন সময় লাগে। এ সময়ের জন্য আমরা কোন ভাতা দেইনা । তবে আমাদের কারখানায় কাজ করা কালিন অসুস্থ হলে আমরা চিকিৎসা খরচ দেই। বীরগঞ্জে গড়ে উঠেছে ১৩টি পরচুলা তৈরীর কারখানা ।

চিনা প্রতিষ্ঠান গুলোর সহযোগিতায় কারখানা গুলোতে মান সম্মত কাজ ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় চিন,জাপান সহ মধ্যেপাচ্যের ১০টি দেশের ব্যবসায়িরা বীরগঞ্জ থেকে সরাসরি পরচুলা ক্রয় করছে। উদ্যেগতারা জানান, চিন,জাপান,ভারত, দুবাই,থাইল্যান্ড,সিঙ্গাপুর,নেপাল সহ বিভিন্ন দেশে পরচুলার ব্যপক চাহিদা রয়েছে।পপি আকতারের সাথে কথা বলে জানা যায় সে এর আগে দর্জির দোকানে কাজ করতো মাসে ৩ হাজার টাকা পেত, এখানে ঠিকমত কাজ করতে পারলে মাসে ৮হাজার টাকা আয় সম্বব।

গোলাপি আকতার ক্লিনিকে কাজ করতো। সে পেতো মাসে ৪হাজার। গোলাপি আরো জনান,এখানে ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের পরচুলা আছে, দ্রুত কাজ করতে পারলে মাসে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকার কাজ করা সম্ভব। উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ি বাজারে বাগদাদ প্লাজা ভাড়া নিয়ে রায়হান হেয়ার ইন্টারন্যাশনালের ১৭৫ জন নারী -পুরুষসহ আরো অনেকেই পরচুলা বা চুলের ক্যাপ তৈরি করে সাফল্য অর্জন করেছে । এব্যাপারে রায়হান হেয়ার ইন্টারন্যাশনালের ব্যাবস্থাপক সাজু ইসলাম জানান,আমরা ছেলে- মেয়েদের এনে প্রশিক্ষন দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানে অবসর সময়ে কাজ করে আয় করে বেশ ভালোই চলছেন তারা। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখা সম্ভব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য