পঞ্চগড়ে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা

পঞ্চগড়ে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা

রংপুর

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত জেলার মত পঞ্চগড়েও প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা রোগী। গত জুন মাসে জেলায় করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছিল ২৩০ জন। সেখানে চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে সনাক্ত হয়েছে ৪৭৮ জন। সর্বশেষ গত ১০ জুলাই ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা সনাক্ত হয়েছে ৯৯ জন।

সনাক্তের হার ৫২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। প্রতিদিনই সনাক্তের সংখ্যা বেড়ে চললেও পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেই আইসিইউ’র ব্যবস্থা। বর্তমানে অক্সিজেনের সংকট নেই। সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের কাজ চলমান। এটির কাজ শেষ করতে আরও প্রায় মাস তিনেক সময় লাগবে।

আইসিইউ সুবিধা না থাকায় ফুসফুসে অধিক সংক্রমিত রোগীদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে দিনাজপুর বা রংপুর মেডিকেলে। এতে করে চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে করোনা টেস্টেও। এছাড়া জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে রয়েছে চিকিৎসক সংকট। কোভিড রোগীদের পাশাপাশি নন কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য সদর হাসপাতালে অন্য উপজেলা থেকে চিকিৎসক এনে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও জেলার রোগীদের প্রধান ভরসা ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত জটিল রোগী ও দূর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়ে এই হাসপাতালে। কিন্তু এই হাসপাতালে আইসিইউ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় এসব রোগীদের পাঠানো হয় দিনাজপুর কিংবা রংপুর মেডিকেলে।

হাসপাতালটিতে বর্তমানে অক্সিজেনের কোন সংকট না থাকলেও যে হারে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এতে করে অক্সিজেন সংকট দেখা দিতে পারে। এই সংকট সমাধানে ইতোমধ্যে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট নির্মানের কাজ চলমান রয়েছে। তবে এই প্লান্টের কাজ শেষ করতে আরও তিন মাস সময় লাগবে। জেলার প্রধান এই হাসপাতালে রয়েছে চিকিৎসক সংকট। ৩৬টি পদের বিপরীতে এখন কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১০ জন। তবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য ঢাকা থেকে ৬ জন চিকিৎসক দেয়া হয়েছে। এছাড়া সিভিল সার্জনের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৯জন চিকিৎসককে সদর হাসপাতালে ডেপুটেশনে আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে আধুনিক সদর হাসপাতালে এখন ২৫ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্তের পর এই জেলায় প্রথম ঢেউয়ে আক্রান্ত হন ৭৭৯ জন। এদের মধ্যে মৃত্যূবরণ করেন ২০ জন। আর দ্বিতীয় ঢেউয়ে ১০ জুলাই পর্যন্ত সনাক্ত হয়েছে ৭৮০ জন। আর মারা গেছে ১০ জন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ এই জেলায় দিন দিন বাড়ছে। এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা মোট সনাক্তের সংখ্যা এক হাজার ৫৪৫ জন। আর মোট মৃত্যু ৩০ জন।

বতর্মানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫৯৬ জন। কোভিড রোগিদের চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালের অভ্যন্তরে তত্ত্বাবধায়কের বাসভবনে ২০ শয্যাবিশিষ্ট করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত এই ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৫ জন কোভিড রোগী। বাকিরা নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুর রহমান জানান, আইসিইউ নির্মাণ অনেক সময়ের ব্যাপার। বর্তমানে পঞ্চগড়ের অক্সিজেনের কোট সংকট নেই। অধিক রোগীর অক্সিজেন সামাল দিতে ইত্যেমধ্যে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের কাজ চলছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই প্লান্টের কাজ শেষ হলে ২২৫টি পয়েন্টে লাইন দেয়া যাবে। এতগুলো লাইন আমাদের প্রয়োজন হবে না। প্রতিটি বেডের সাথে লাইন দেয়া থাকবে।

তিনি আরও বলেন, করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য ২০ শয্যার কোভিড ডেডিকেটেড ইউনিট রয়েছে। এখানে ১১ জুলাই সকাল পর্যন্ত ১৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে আরও ১০টি বেড সংযোজন করা হবে। রুটিনমাফিক হাসপাতালের চিকিৎসকরাই সেখানে চিকিৎসা দিচ্ছেন। আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকায় অন্য উপজেলা থেকে আনা চিকিৎসকরা ডেপুটেশনে দায়িত্ব পালন করায় বর্তমানে এই হাসপাতালে রোগীদের কোন দূর্ভোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য