খানসামা উপজেলায় ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি রোগী, প্যারাসিটামল গ্রুপের ঔষধ সংকট

খানসামা উপজেলায় ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি রোগী, প্যারাসিটামল গ্রুপের ঔষধ সংকট

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ উত্তরের জেলা দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। করোনার সংক্রমণ বদ্ধি ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে ঘরে ঘরে বেড়েছে জ্বর, সর্দি, কাশির রোগী। ফলে স্থানীয় ঔষধ দোকানগুলোতে প্যারাসিটামল গ্রুপের ট্যাবলেট ও কাশির সিরাপ কেনার হিড়িক পড়েছে।

বর্তমানে পুরো উপজেলায় করোনা শনাক্তের হার ৫০ শতাংশ এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকে বাড়ছে রোগীর চাপ, একই সঙ্গে বাড়ছে ঔষধের চাহিদাও। আর এই সময়ে হঠাৎ বাজার ও ফার্মেসী থেকে উধাও হয়েছে প্যারাসিটামল গ্রুপের ঔষধ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু করোনাভাইরাস নয়, ঋতু পরিবর্তনেরও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ কারণে সবখানেই এখন জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (০৮ জুলাই) সকালে উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পাকেরহাটে ঔষধের দোকানগুলোতে পুরো দেশে রোগীদের চাহিদার শীর্ষে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপের নাপা, নাপা এক্সট্রা, নাপা এক্সটেন্ড, নাপা সিরাপ, স্কয়ার কোম্পানির এইচ প্লাস, এইস এক্সট্রা, এইস সিরাপ ও একমি কোম্পানির ফাস্ট, ফাস্ট প্লাস, ফাস্ট এক্সার, ফাস্ট সিরাপ এবং এসব কোম্পানির এজিথ্রোমাইসিন গ্রুপের ঔষুধ গুলোর সংকটের কথা শোনা গেছে।

দোকানে দোকানে ঘুরেও এসব ঔষধ না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। ছোট ব্যবসায়ীরা তাকিয়ে আছেন ঔষধ কোম্পানির এজেন্টদের দিকে। বড় ঔষধ ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানি থেকেই এসব গ্রুপের ঔষধের ডেলিভারি অনেক কম।

পাকেরহাট এ.এফ.আর মেডিসিন মার্টের সত্ত্বাধিকারী বখতিয়ার উদ্দিন বলেন,এসব কোম্পানি যে পরিমাণ ঔষধ সরবরাহ করে তা চাহিদার তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। গত ১০-১৫ দিন ধরে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই কোম্পানি গুলোকে ঔষধের জন্য তাগিদ দেয়া হচ্ছে। তবে সরবরাহ না থাকায় আমাদেরও কিছু করার থাকছে না। তবে অন্য কোম্পানির প্যারাসিটামল ও এন্টিবায়োটিক গ্রুপের ঔষধ পর্যাপ্ত আছে।

পাকেরহাট মেডিকেল মোড়ের বাবা ফার্মেসীর মালিক মাহবুর রহমান মিলন বলেন, চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানিগুলো ঔষধ সরবরাহ করতে পারছে না। বিশেষ করে প্যারাসিটামল ঔষধের চাহিদা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চাহিদা অনুযায়ী প্রথম সারির কোনো কোম্পানিই এই ঔষধ সরবরাহ করছে না। ফলে এই সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা.মো. মিজানুর রহমান বলেন , বাজারে এসব কোম্পানির প্যারাসিটামল গ্রুপের ঔষধ সংকটের কথা শুনেছি। তবে সাধারণ জ্বর, মাথা-ব্যথার ক্ষেত্রে এসবই একমাত্র ওষুধ না। বাজারে অন্য কোম্পানিরও ভালো ঔষধ আছে। যেগুলো ঔষধেরও যথেষ্ট কার্যকারিতা আছে এবং হাসপাতালে প্যারাসিটামল গ্রুপের পর্যাপ্ত ঔষধ আছে তাই আশংকার কিছু নেই।

ইউএনও আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, মানুষের মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা জ্বর হলে শুধু এসব ঔষধ খেতে হবে। কিন্তু অন্য কোম্পানিগুলোরও যে বিভিন্ন নামে প্যারাসিটামল ওষুধ আছে, সেটা সম্পর্কে তাদের ধারণা কম। আর প্রয়োজনীয় এসব ঔষধ সংকটের সাথে যদি কোন ফার্মেসী জড়িত থাকে তাহলে উপজেলা প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য