ঠাকুরগাঁওয়ের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি: মোট মৃত্যু ১০৪জন

রংপুর

সারা দেশের তুলনায় ঠাকুরগাঁওয়ে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পরে জেলাবাসী। পরবর্তিতে পরীক্ষা বাড়লে আক্রান্তের হারও বাড়তে থাকে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। তবে সবমিলিয়ে জেলার করোনা পরিস্থিতি অনেকটা ভাল রয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন ডা: মাহফুজার রহমান সরকার। আতংকিত না হয়ে সচেতনতার মাধ্যমে করোনা মেকাবেলা করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।

তিনি জানান, জেলায় এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৭ জন। জেলায় মোট ১০৪ জন আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬০৬ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে ২/১ দিনের মধ্যে কার্যক্রম যথারীতি চালু হবে। ভ্যাকসিনের জন্য রেজিষ্ট্রেশন করতে আসা রোগীর চাপ বেশি থাকায় কিছু মানুষকে ফেরত দেওয়া হলেও গতকাল বুধবার থেকে আর কাউকে ফেরত দেওয়া হবে না। যে সংখ্যক মানুষজন পরীক্ষা করতে আসবেন শতভাগ সেবা পাবেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১১৫ জন। তার মধ্যে সদর হাসপাতালে ১শ জন ও অন্যান্য উপজেলায় ১৫ জন ভর্তি রয়েছেন। বর্তমানে জেলায় মোট করোনার জন্য বেড প্রস্তুত রয়েছে ৩শ টি। এর মধ্যে সদর হাসপাতালে ২শটি এবং ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫টি করে বেড রয়েছে। এছাড়াও প্রি আইসোলেশনের জন্য ৫০টি বেড যে কোন সময় জরুরী প্রয়োজনে প্রস্তুত করা যাবে। এছাড়াও অতি প্রয়োজনে ৪টি উপজেলায় ২৫ টির স্থলে রোগীর চাপ বেশি হলে বেড সংখ্যা বাড়ানোর ব্যবস্থাও করা হতে পারে।

সদর হাসপাতালের তত্তাবধায়ক ডা: নাদিরুল আজিজ চপল জানান, বর্তমানে সদর হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের পর্যাপ্ত সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ২ ধরনের রোগী ভাগ করলে প্রথমত যাদের শারীরিক বেশি সমস্যা নেই তাদের যাবতীয় ঔষধপত্র হাসপাতাল থেকেই দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রকারভেদে দ্বিতীয়ত যাদের বেশি শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাদেরও যাবতীয় ঔষুধ হাসপাতাল থেকেই দেওয়া হচ্ছে। কারও খুবই জরুরী সমস্যা হলে রেমডেসেভির ইনজেকশন বাহিরে থেকে নিচ্ছে। এতে একজন স্বাভাবিক করোনা রোগীর অতিরিক্ত কোন খরচ লাগছে না। সেক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ রোগীর ক্ষেত্রে সর্বমোট ২০ হাজার টাকার মত ঔষুধ লাগতে পারে। তার মধ্যে ইনজেকশন প্রতিপিস ১হাজার ৫শ টাকা ধরলে ৬ টি ইনজেকশন বাহির থেকে কিনতে রোগীদের ৯ হাজার টাকা লাগবে বাকি সব ঔষধ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।

করোনার সেবা দিতে বর্তমানে সদর হাসপাতালে ৪ জন কনসালটেন্ট এর মধ্যে ডা: তোজাম্মেল হক, ডা: অনিমেষ ঝা, ডা: হাবিবুর রশিদ লিট ও ডা: রেজাউল করিম সেবা দিচ্ছেন। এছাড়াও ২০ জন মেডিকেল অফিসার করোনায় আক্রান্তদের সেবা প্রদান করছেন। এদের মধ্যে ১৪ দিন পর পর কনসালটেন্ট পরিবর্তন করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। মেডিকেল অফিসারগণ দিনে ২ বার রাউন্ড দিয়ে রোগীদের খবর নেন। কারও জরুরী চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন হয় কনসালটেন্টগণকে জানান তারা। অন্যদিকে করোনা পরীক্ষাগারে কাগজে কলমে ৩ জন মানুষ নিয়োগ থাকলেও একজন ছুটিতে থাকায় ২ জন পরীক্ষার কাজ করছেন। এতে করে পরীক্ষার নমুনা নিয়ে রিপোর্ট তৈরী পর্যন্ত প্রত্যেক পরীক্ষাতে ১০-১৫ মিনিট সময় লাগে। ফলে দিনে ১শ বা তার বেশি রোগীর নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও রিপোর্ট তৈরীতেই অনেক রাত হয়ে যায়, ফলে ১শর বেশি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় মোট ২২৫ টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০৮ জনের শরীরে করোনা সনাক্ত হয়। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৭জন। নতুন ৪ জনসহ মোট ১০৪ জন আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হড়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৬০৬ জন। জেলা প্রশাসনের ৭জন কর্মকর্তা, ১১ জন কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হন। এর মধ্যে একজন কর্মচারীর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে জেলা পুলিশের সাড়ে ৯শ সদস্যের মধ্যে ২২ জন এবং ৭ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য