দিনাজপুর মহারাজা স্কুলে স্মৃতি ফলটি উধাও

দিনাজপুর মহারাজা স্কুলে স্মৃতি ফলটি উধাও

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরবাসী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের জন্য পরিতাপের বিষয় যে, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে মহারাজা স্কুল প্রাঙ্গণে নির্মিত স্মৃতিসৌধটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ১৯৭২ সালের ৬ জানুয়ারিতে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণে শহীদ হওয়া অর্ধসহস্র মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে এই স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছিল “দিনাজপুর মহারাজা স্কুলে শহীদ ও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিসৌধ বাস্তবায়ন কমিটি” এর উদ্যোগে।

এই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালিন জোনাল-৬ এর চেয়ারম্যান এবং জাতীয় সংসদের বর্তমান হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি’র পিতা মরহুম এম আব্দুর রহিম। কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সফিকুল হক ছুটু। ২০০০ সালের ৬ই জানুয়ারি স্মৃতিসৌধটি আনুষ্ঠাকিভাবে উদ্বোধন করেন তৎকালিন বিডিআর মহাপরিচালক আ ল ম ফজলুল হক।

মঙ্গলবার স্মৃতিসৌধ স্থান পরিদর্শন করে এর নির্মাণ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িতদের অনেকেই আশ্চর্য হয়ে যান। তারা দেখেন যে, যে স্থানে স্মৃতিসৌধ ছিল সেখানে এখন একটি খালের মত রয়েছে। স্মৃতি সৌধের ইট, ফলক সমস্ত কিছু গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ৬ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে ৬ই জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদের সাধারন সম্পাদক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সুলতান কামালউদ্দীন বাচ্চু স্মৃতিফলকটি ভেঙ্গে ফেলার তথ্য প্রথম বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে মোবাইল ফোনে জানান। এই তথ্য ছড়িয়ে পড়লে অনেকের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এই প্রতিনিধি গতকাল মহরাজা স্কুলে গিয়ে দেখেন যে, সেখানে স্মৃতি ফলকটির কোন অস্তিত্বই নেই। ঐ এলাকার কয়েক ব্যক্তির সাথে আলাপ করে জানা যায়, স্মৃতি ফলকের স্থানে একটি বহুতল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বহুতল মসজিদ নির্মাণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার স্মৃতি ফলকটি ভেঙ্গে ফেলেছেন। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, বর্তমান সরকার যেখানে দেশের বধ্যভূমি ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মারক ধরে রাখতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছেন, সেখানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতি সৌধটি একজন ঠিকাদার কোন ক্ষমতায় ভাঙ্গতে পারেন?

স্মৃতিসৌধটি কবে ভাঙ্গা হয়েছে তা কেউ বলতে পারেন নাই। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ ৬ই জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদ সভাপতি সফিকুল হক ছুটু বুধবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সীমিত সংখ্যক ব্যক্তিদের একটি জরুরী সভা ডেকেছেন। বুধবার সকালে স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি বিধানের দাবী জানানো হয়। সভায় বলা হয়, সরকার যখন সারা দেশে গণকবর, বধ্যভূমি ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষনের মহতি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তখন কার ইঙ্গিতে দিনাজপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভ গুড়িয়ে দেওয়া হলো তা অবশ্যই খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

শফিকুল হক ছুটু বলেন, আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমকে এই ঘটনাটি জানানোর পর তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানান। নাগরিকদের একটি প্রতিনিধি দল হুইপের সাথে বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সাবেক মেয়র শফিকুল হক ছুটু জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য