লালমনিরহাটে ভাঙ্গন আতঙ্কে তিস্তা পাড়ের মানুষ

লালমনিরহাটে ভাঙ্গন আতঙ্কে তিস্তা পাড়ের মানুষ

রংপুর

লালমনিরহাটের নদ নদীতে পানি বৃদ্ধি ও হৃাসের কারণে নদী ভাঙ্গন আতঙ্ক বেড়ে গেছে। নির্ঘুম রাত কাটছে তিস্তা পাড়ের মানুষদের। সেই সাথে গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে লালমনিরহাটের নদ- নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদ সিমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে একদিকে বন্যার আতঙ্ক অপরদিকে তিস্তা নদী পাড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙ্গন। এর মধ্যে বেশি ঝুকিতে পড়েছে লালমনিরহাট জেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের চর গোকুন্ডার আশ্রয়নের ৩ শত পরিবারসহ ওি গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চর গোকুন্ডা এলাকার নিরব বাজার সংলগ্ন তিস্তা নদীর পাড় ভাঙ্গনের চিত্র। ওই গ্রামের প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকার মানুষ ভাঙ্গন আহঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাছে। যে কোন মূহুর্তে বিলিন হয়ে যেতে পারে বসতবাড়ী, ফসলি জমি,স্কুল ও মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

উল্লেখ্য যে, গত ১ জুলাই চর গোকুন্ডা তিস্তা নদীর ভাঙ্গন পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ। এ সময় তার সাথে ছিলেন লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মিজান।

তারা ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩ শত পরিবার, মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় নদী ভাঙ্গন রোধে মাত্র ১শ মিটার ভাঙ্গন এলাকায় জিও ব্যাগ ড্যাম্পিং করার উদ্যোগ নেয়। আর এ কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গোকুন্ডা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপনকে। ইতোমধ্যে কয়েকদিনে মাত্র মাত্র ৯ শত বস্তা জিও ব্যাগ ড্যাম্পিং এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

চর গোকুন্ডা এলাকার কৃষক মনসুর,নায়েব ও রোকেয়া বেগম বলেন, শুস্ক মৌসুমে নদীতে পানি থাকে না। তখন নদীর পার সংস্কার না করে পানি উন্নয়ন বোর্ড বর্ষা মৌসুমে নদীর পাড় সংস্কার করছে এটা তাদের লোক দেখানো ছাড়া আর কিছু নয়।

আড়াই কিলোমিটার ভাঙ্গন এলাকা ১শত মিটার কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে লালমনিরহাট পাওবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সেল ফোনে বলেন, এর কয়েক মাস আগে ২শ মিটার কাজের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সে আবেদনে কোন সারা পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে রংপুর বিভাগীয় প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে মন্ত্রীর সাথে কথা বলে ১শ মিটার কাজ করার অনুমতি দিয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নাই। আপনি এ ব্যাপারে মন্ত্রীকে বলতে পারেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য