কুড়িগ্রামে বন্যার আতঙ্কে অপরিপক্ক পাট কাটছে কৃষক

কুড়িগ্রামে বন্যার আতঙ্কে অপরিপক্ক পাট কাটছে কৃষক

রংপুর

য়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানী ঢলে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বৃদ্ধি পেয়েছে নদণ্ডনদীর পানি। এতে করে বন্যার আশঙ্কা করছে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী মানুষ। এ অবস্থায় কৃষি ফলন নিয়ে বিপাকে কৃষকরা। এখনও অপিরপক্ক নিম্নাঞ্চলে ফলানো পাট। বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এবং ফসল উৎপাদনের ব্যয়টুকু উত্তোলনের আশায় টানা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই এসব পাট কাটছেন কৃষকরা। ক্ষেতের পাট কেটে নেয়ার যোগ্য না হওয়ায় এ বন্যায় তাদের অর্থ-স্বপ্ন বন্যায় ভেসে যাবে এমন আশঙ্কায় হতাশায় রয়েছেন তারা।

পাটচাষিরা জানায়, পাটের বীজ বপন করা থেকে শুরু করে পাট গঁজে ওঠা ও পরিপক্ক হতে সময় লাগে প্রায় ৪ মাস। ভালো ফলন হলে এক বিঘা জমিতে পাট উৎপাদন হয় ১০ থেকে ১২ মণ। বর্তমানে প্রতি মণ পাট বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকা দরে। আর এক বিঘা জমিতে পাটচাষে সব মিলে ব্যয় হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। জমি থেকে আগাম পাট কাঁটার কারণে বিঘা প্রতি ৩ থেকে ৪ মণ পাট কম হতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কেদার ইউনিয়নের কাজিয়ারদারা দোলায় পাট কাটছেন কৃষক হামিদুল ইসলাম। তিনি জানান, এখনও শক্ত হয়নি তার ক্ষেতের পাটের ছাল। এরই মধ্যে ক্ষেতে পানি উঠেছে। এ অবস্থায় কিছুদিন পানি থাকলে পাট গাছের গোড়া পঁচে সব গাছ মরে যাবে। তাই পাটগুলো কেটে নিচ্ছেন তিনি। এতে খুব একটা লাভ না হলেও লোকসান হবেনা তার।

কচাকাটা ইউনিয়নের তরীরহাট এলাকার রবিউল ইসলাম জানায়, তার ক্ষেতের পাশেই নদী। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। এতে করে ক্ষেতেও পানি উঠেছে। পানি বাড়লে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পাট কেটে নেন তিনিও। শিবেরহাট গ্রামের আজিবর রহমান বলেন-নিচু জায়গা। গতবারের আগাম বন্যা কাটমো কাটমো করি এমন ভাবে বন্যা আসিল্ আর পাট কাইটপের পাই নাই। একবারে পঁচি শেষ হয়া গেইছে। এবার বন্যা আসার আগোতে কাইটলং, পাটা না পাই নাই, খড়ি তো হইবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে ২২ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তা অর্জিতও হয়েছে। এ যাবত ১৩ হাজার হেক্টর জমি হতে পাট কর্তন করা হয়েছে। আর অপরিপক্ক পাট যেগুলো কাটা হচ্ছে তা পরিমাণে খুব কম। আশা করি ফসলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এর কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য