টাঙ্গাইল হাসপাতালে হাইফ্লো নাজাল ক্যানুলার অভাব ১১ জনের মৃত্যু

টাঙ্গাইল হাসপাতালে হাইফ্লো নাজাল ক্যানুলার অভাব ১১ জনের মৃত্যু

জাতীয়

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে শনিবার সকাল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত ও এই রোগের উপসর্গ নিয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৫ জন।

চলতি জুলাই মাসের চারদিনে জেনারেল হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ৪৩ জনের মৃত্যু হলো। অধিকাংশ রোগী মারা যাচ্ছে অক্সিজেনের অভাবে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বাড়ছে। উপসর্গ নিয়ে আসা বেশিরভাগ রোগী হাসপাতালে আসছেন শেষ মুহূর্তে। অনেক রোগীর অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে থাকে। এসব রোগীর অক্সিজেন দেয়ার জন্য হাইফ্লো নাজাল ক্যানুলা প্রয়োজন হয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শফিকুল ইসলাম জানান, এই হাসপাতালে হাইফ্লো নাজাল ক্যানুলা রয়েছে ১০টি। এর মধ্যে চারটি অকেজো। মাত্র ছয়টি হাইফ্লো নাজাল ক্যানুলা দিয়ে বিপুলসংখ্যক মুমূর্ষু রোগীকে সেবা সম্ভব হচ্ছে না। আরও অন্তত ২৫টি হাইফ্লো নাজাল ক্যানুলা থাকলে রোগীদের যথাযথভাবে সেবা দেওয়া যেত। এতে মৃত্যু হারও অনেক কম হতো।

এমপি ছানোয়ার হোসেন ও এমপি আহসানুল ইসলাম টিটু রোববার জেনারেল হাসপাতালে তিনটি হাইফ্লো নাজাল ক্যানুলা প্রদান করেছেন বলে আরএমও জানান।

এ হাসপাতালে ১ জুলাই উপসর্গ নিয়ে ৯ জন এবং আক্রান্ত সাতজন, ২ জুলাই উপসর্গ নিয়ে চার ও আক্রান্ত তিনজন, ৩ জুলাই উপসর্গ নিয়ে তিন ও আক্রান্ত ছয়জন সর্বশেষ ৪ জুলাই উপসর্গ নিয়ে সাত ও আক্রান্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে ১০২টি শয্যা রয়েছে। রোববার ওয়ার্ড দুটিতে রোগী ভর্তি ছিল ১১৫ জন। সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে ৭০টি। সেখানে রোববার পর্যন্ত রোগী ছিল ৮৯ জন।

রোববার সকালে সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শয্যার অভাবে অনেক রোগী মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেক রোগীর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা প্রয়োজন। কিন্তু ছয়টি আইসিইউ শয্যার সবগুলোতেই রোগী রয়েছে।

ভূঞাপুর থেকে আসা অনিমেষ বসাক জানান, করোনা আক্রান্ত তার বৃদ্ধা মাকে নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে। চিকিৎসকরা বলছেন, তার মাকে আইসিইউতে নেওয়া প্রয়োজন। আইসিইউতে কোনো শয্যা খালি নেই। এখন কী করবেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, রোববার জেলায় নতুন করে ১৯৫ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ৪৮১টি নমুনা পরীক্ষা করে এ শনাক্ত হয়। আক্রান্তের হার ৪০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা আট হাজার ৪০৪ জন। গত কয়েক দিন ধরে জেলায় আক্রান্তের হার ৪০ শতাংশের উপরে রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য