ঠাকুরগাঁওয়ে কাঠালের বাম্পার ফলন, বাজারে দাম নেই

ঠাকুরগাঁওয়ে কাঠালের বাম্পার ফলন, বাজারে দাম নেই

রংপুর

ঠাকুরগাঁওয়ে এ বছর কাঁঠালের বাম্বার ফলন হয়েছে। গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি ফলন হলেও বিক্রি না হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়িরা বীপাকে পরেছেন। এর কারন হিসেবে করোনা পরিস্থিতি ও কঠোর বিধিনিষেধকেই দুষছেন তারা। জেলার বিভিন্ন বাজারে কাঁঠাল বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম না থাকায় বাড়িতে ও গাছেই পঁচা শুরু করেছে কাঠাল। ফলে পাইকার ও ব্যবায়িরা পূজি হারানোর শঙ্কায় পরেছেন।

এছাড়াও বাজারে চাহিদা না থাকায় তা কিনেও পুঁজি হারানোর শঙ্কায় পরেছেন ব্যবসায়িরা। অপরদিকে কাঁঠাল বাগান মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও প্রক্রিয়াজাতকরণের কোন ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত করা হয়নি। এর ফলে ফলন বেশি হলেও অর্থনৈতিক গুরুত্ব হারাচ্ছে কাঁঠাল। ২০১৯ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়, চাহিদা অনুযায়ী কাঁঠাল বিক্রিও হয় ভাল। এতে করে ব্যবাসায়ি ও আড়ৎদারগণ পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঠাল কিনে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে ও বিদেশেও রপ্তানী করেছিলেন। ওই সময় জেলার বিভিন্ন হাট বাজার ও রাস্তাঘাটে কাঁঠালের হাট বসলেও এ পর্যন্ত জেলায় হাট বসতে দেখা যায়নি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার সদর উপজেলার রহিমানপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সামসুল নামে এক ব্যক্তির ৪/৫ টি গাছে কাঁঠাল ধরেছে প্রচুর পরিমানে। কিন্তু দাম না থাকায় কাঁঠাল গাছেই পঁচে যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে করোনার কারনে দাম না থাকাকেই দায়ী করছেন গাছের মালিক, পাইকার ও ব্যবসায়িগণ।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেক বছর এ সময়টাতে কাঁঠালের ছড়াছড়ি হয়। এ সময় দামও থাকে চড়া। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারনে গাড়িঘোড়া বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ি বা পাইকারগণ আসতে পারছেন না। এর আগে তারা বিভিন্ন বাগান ও স্থান থেকে কাঁঠাল কিনে তা পুরো মৌসুমজুড়ে দেশের বিভিন্ন বড় ছোট হাট বাজারে ভাল দামে বিক্রি করে লাভবান হতেন। এ অবস্থায় জেলার বিভিন্ন হাট বাজার ও গ্রাম-গঞ্জে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে না, ফলে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে পাইকার ও ব্যবসায়িগণ পুঁজি হারানোর শঙ্কায় পরেছেন।

সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ এলাকার ডাবলু জানান, তাদের একটি কাঁঠালের বাগান ও কৃষি জমির বিভিন্ন স্থান মিলে ৫০-৬০ টি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। ইতিমধ্যে কাঁঠাল পাকা শুরু হয়েছে। কিন্তু বারবার স্থানীয় কয়েকজন পাইকার-ব্যবসায়িকে খবর দিলেও তারা কাঁঠাল নিতে আসেননি। তাই তিনি কোন কাঁঠাল বিক্রি করতে পারেননি। এতে কাঁঠাল গাছেই পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সদর উপজেলার গিলাবাড়ী গ্রামের নাসিমুল হক জানান, প্রতি বছর তিনি ২০-৩০ হাজার টাকার কাঠাল বিক্রি করেন। এ বছর কাঁঠালের ফলন অনেক ভাল হলেও করোনার কারণে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় এ পর্যন্ত কোন কাঁঠাল বিক্রি করতে পারেননি। ফলে প্রত্যেক বছর বিক্রি কম হলে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি পাঠালেও এ বছর পারছেন না, ফলে কাঁঠাল পঁচে নষ্ট হচ্ছে।

জেলার বেশ কয়েকজন কাঁঠাল পাইকার-ব্যবসায়ির সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রত্যেক বছর তারা গাছে কাঁঠাল ছোট থাকাকালীন চুক্তিভিত্তিক বাগান কিনে থাকেন। পরে বেশি দামে তা বাজারে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানী করেন। কিন্তু এ বছর দেশের বিভিন্ন স্থানের আড়ৎদারগণ কাঁঠাল কিনতে অনিহা প্রকাশ করায় আর্থিক দিক থেকে লোকসানের শঙ্কায় পরেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানান, এ বছর জেলায় ১৫৭ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে। দিন দিন জেলায় কাঁঠালের চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ঠাকুরগাঁও জেলার মাটি কাঁঠাল চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলন প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর অনেক ভাল হয়েছে। তবে করোনার কারনে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় কাঁঠাল কেনা-বেচায় একটু সমস্যা হতে পারে। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে কৃষকেরা যাতে করে কাঁঠাল বিক্রি করে আর্থিক দিক থেকে লাভবান হতে পারেন এ ব্যাপারে যাবতীয় সহযোগিতা করবে কৃষি বিভাগ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য