Parbatipur  MGMCL- 21(1)দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে দ্বিতীয় শিফট চালু হয়েছে। এতে পাথর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় আড়াই গুন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি খনির দায়িত্ব গ্রহণের ৮৭ দিনের মাথায় গত শনিবার দ্বিতীয় শিফট চালু করে। এতে প্রতিদিন পাথর উত্তোলনের পরিমাণ দাড়িয়েছে প্রায় আড়াই হাজার মেট্রিক টন।

এর আগে এক শিফটে পাথর উত্তোলন করা হতো। ওই সময় এক হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলিত হতো।

আগামী জুলাই থেকে তৃতীয় শিফট চালু করে প্রতিদিন পাঁচ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

তবে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহারের পরিবর্তে বিদেশ থেকে পাথর আমদানি করার দিকে ঝুকে পড়েছে। এতে করে পুরোদমে পাথর উত্তোলন শুরু হলে তা বাজারজাতকরণ নিয়ে চিন্তিত খনি কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০০৭ সালের ২৫মে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়। তখন থেকেই খনিটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।

২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত ছয় বছরে লোকসান দিয়েছে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা। এ লোকসানের অন্যতম কারণ প্রতিদিন তিন শিফটে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এক শিফটে মাত্র এক হাজার মেট্রিক টন পাথর উৎপাদন।

বছরের পর বছর ধরে লোকসান দিতে দিতে ঋণের পাল্লা ভারি হয়ে বন্ধের মুখে খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় বেলারুশের জেএসসি ট্রেস্ট সকটোসট্রয় (JSC Trest Soktostroy) ও দেশীয় প্রতিষ্টান জার্মানিয়া করপোরেশন লিমিটেড (Germania Corporetion Ltd.) নিয়ে গঠিত জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসি’কে (Germania Trest Consortium-GTC)।

গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর ছয় বছরের জন্য জিটিসির সঙ্গে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি জিটিসি খনি পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি উৎপাদনে যায়।

১৭ মে থেকে জিটিসি ৩২০ জন শ্রমিক দিয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রথম শিফট এবং রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত দ্বিতীয় শিফট পরিচালনা করে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করছে। এর আগে, পেট্রোবাংলা ৩০৮ জন শ্রমিক দিয়ে এক শিফট পরিচালনা করে প্রতিদিন উত্তোলন করতো এক হাজার থেকে ১১শ মেট্রিক টন পাথর।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আবুল ফজল নাজমুল আহসান জানান, দু-এক মাসের মধ্যে তৃতীয় শিফট চালু করে প্রতিদিন ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হবে।

তিনি বলেন, পাথর ব্যবহারকারী দেশীয় সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহার না করে বিদেশ থেকে পাথর আমদানি করে থাকে। অথচ আমদানি করা পাথরের চেয়ে মধ্যপাড়ার পাথর অনেক উন্নতমানের। মধ্যপাড়ার পাথরের কমপ্রেশিভ স্ট্রেংথ (compressive strength) ২৪ হাজার পিএমআই, সেখানে আমদানি করা পাথরের কমপ্রেশিভ স্ট্রেংথ ১২ হাজার পিএমআই।

পাথর আমদানি বন্ধ করতে এখনই সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে পুরোদমে পাথর উৎপাদন শুরু হলে এবং সময় মত বিক্রি করা না গেলে খনি কর্তৃপক্ষকে অসুবিধায় পড়তে হবে বলে জানান তিনি।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি’র প্রতিনিধি ও জার্মানিয়া করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ডক্টর সিরাজুল ইসলাম কাজী জানান, ঋণের ভারে নুয়ে পড়া মধ্যপাড়া শিলা খনিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বেলারুশের একদল দক্ষ খনি বিশেষজ্ঞ দ্বারা সুচারু ও শক্ত হাতে খনিটি পরিচালনা করা হচ্ছে।

মধ্যপাড়া শিলা খনিকে দেশের মডেল খনি হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য