দিনাজপুরে রসালো মিষ্টি লিচুর ফলন কম কিন্তু দাম চড়া

দিনাজপুরে রসালো মিষ্টি লিচুর ফলন কম কিন্তু দাম চড়া

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দেশে সেরা মানের দিনাজপুরের লিচু। সমগ্র দেশে দিনাজপুর জেলায় লিচুর বড় কদর রয়েছে। দিনাজপুরের লিচুর মান অন্যান্য জেলা থেকে অনেক মাত্রায় উচুঁতে আবস্থান করছে। মিষ্টি ও রসালো স্বাদের বৈশিষ্ট নিয়ে বিভিন্ন জাতের এ লিচুর মধ্যে বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি ও চায়না-থ্রি রয়েছে। বাজারে রসালো মিষ্টি লিচু বেশ কিছু দিন আগে উঠতে শুরু করেছে।বর্তমানে মাদ্রাজি লিচু শেষ। অন্যান্য লিচু শেষের দিকে। তবে বর্তমানে বাজারে বেদানা, চায়না-থ্রি ও বোম্বাই লিচুর আমদানি হচ্ছে। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বেদানা এবং চায়না-থ্রির আমদানি কমেছে।

কৃষি সম্প্রসারন এর তথ্য অনুসারে দশ বছর আগেও দিনাজপুরে লিচু চাষের জমির পরিমান ছিল ১হাজার ৫শ হেক্টর। বর্তমানে সেখানে এটা বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে ৫ হাজার ৪শ ৮১ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৩হাজার ৪ শত ৮৪ মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি হেক্টরে ৫ মেট্রিক টন লিচু ফলন হয়েছে। সেই হিসেবে গোটা জেলায় ২৭ হাজার ৪ শত ৫ মেট্রিক টন লিচু পাওয়া যাবে।

দিন দিন লিচুর ফলন এবং দাম ভাল পাওয়ায় এ চাষের জমির পরিমান বাড়ছেই। তবে দিনাজপুর জেলায় বিরল উপজেলায় লিচুর বাগানের ক্ষেত্রে অনেক সফলতা অর্জন করেছে। কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে জেলাতে লিচু বাগানের জন্য বিরল উপজেলার অবস্থান অন্যান্য উপজেলা থেকে শীর্ষে রয়েছে। এখানে ২ হাজার ৫ শত ৫০ হেক্টর জমিতে লিচরু চাষাবাদ হয়েছে। পার্বতীপুর উপজেলা দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে, এখানেও ৫ শতক ৭৫ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হচ্ছে আর চিরিরবন্দর উপজেলায় ৫ শতক ৫৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষাবাদ।

করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতিতে জেলায় লিচুর বাজার মানসম্মত রাখতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মাদ জাকী ব্যাপক প্রসারের জন্য গোর-এ শহীদ ময়দানে লিচু বাজারের শুভ উদ্বোধন করেন। জানা যায়, এখানে পাইকারদের সব রকম সুবিধা তৈরী করা সহ সেই সাথে মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে কোন প্রকার বাঁধা সন্মুখীন না হতে হয় সেই দিকের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

দিনাজপুর সদরের মধ্যে মাসিমপুর, কসবা, বাঁশেরহাট, পুলহাট, এছাড়া পাঁচবাড়ি এবং বিরল ও কাহারোল উপজেলাসহ প্রায় সব উপজেলা থেকে লিচু গোর-এ শহীদ ময়দানে লিচুর বাজারে আসে। গ্রাহকরা এখান থেকে লিচু সংগ্রহ করছে।

বাগানের মালিকরা বলছেন, দাম ভাল পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও বাজার প্রসার ঘটাতে হবে মাল পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত গাড়ীর সু-ব্যবস্থা থাকতে হবে। বর্তমানে বাজারে বেদনা ৬,০০০ টাকা থেকে ৮,০০০ টাকা এবং চায়না-থ্রি লিচু ৮,০০০ টাকো থেকে ১০,০০০ টাকা আর বোম্বাইর দাম ৩০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা। লিচুর আকৃতি ও গুনাগুনের উপর নির্ভর করে লিচুর দাম।

দিনাজপুর সদরে পাচঁবাড়ী এলাকায় এক বাগানের মালিক জানান, গতবারের চেয়ে এবার পঞ্চাঁশ হাজার লিচু ফলন কম হয়েছে। বর্তমানে ফলন কম হওয়ায় লিচুর বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়াতে দাম চড়া। সরকারকে বাজারের প্রসার ঘটাতে হবে বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টির ক্ষেত্রে গ্রহনযোগ্য ভ’মিকা পালন করতে হবে।

সদরের মাসিমপুর এলাকাে আর একজন বাগানের মালিক বলেন, আমার তিন বিঘার বাগানে এবার লিচু কম ধরেছে তারপরও বাজারে লিচুর দাম ভাল পেয়েছি। বাজার সম্প্রসারিত করতে বাহিরের পাইকারদের সব রকম সুবিধা দিতে হবে। বেশী করে বাজার প্রসার ঘটাতে হবে।

বিরল উপজেলায় চেয়ারম্যান এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, দিনাজপুর জেলায় বিরল উপজেলা লিচু উৎপাদনের ক্ষেত্রে সিংহভাগ ভুমিকা রাখছে। দিন দিন লিচুর বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখান থেকেও জেলার বাহিরের পাইকাররা লিচু নিয়ে যাচ্ছে তবে দিনাজপুর গোর-এ শহীদ ময়দানে লিচু বাজারের উদ্বোধন হওয়াতে লিচুর কদর বেড়েছে, দামও পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রসার ঘটাতে পাড়লে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

কৃষি বিভাগকে দিনাজপুরের লিচুর মান বৃদ্ধি এবং বাপক প্রসার ঘটাতে নানামুখী কর্মসূচী গ্রহন করা দরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রসার বাড়লে অর্থনৈতিকভাবে এই অঞ্চলের মানুষের কর্মক্ষেত্র তৈরী হবে।

কৃষিবিদ আরও বলেন, দিনাজপুরের লিচু আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশ কিছু দিক নির্দেশনা নিয়েছি তার মধ্যে লিচুর মান বৃদ্ধির জন্য লিচু চাষীদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেছি। বিশেষ করে লিচুর বাজারকে আরো সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে লিচুকে হিমায়িত রাখার জন্য জেলায় কোলস্টোরের চাহিদা চাওয়া হয়েছে কৃষি মন্ত্রানালয়ের কাছে এবং লিচু পরিবহনের জন্য রেল গাড়ীর ওয়াগন দিয়ে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে লিচুর চাহিদাও বাজারে বাড়ছে বাগান কৃষকরা নায্য দাম পাচ্ছে।