হিলিতে ধারালো অস্ত্রের মুখে নগদ অর্থসহ স্বর্ণালঙ্কার চুরি

হিলিতে ধারালো অস্ত্রের মুখে নগদ অর্থসহ স্বর্ণালঙ্কার চুরি

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের হিলিতে ধারালো অস্ত্রের মুখে গৃহবধূ ও ছোট্ট ছেলেকে জিম্মি করে নগদ টাকা,সোনা চুরি।এসময় ওই গৃহবধূ চিৎকার করলে টচ লাইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায় চোরেরা। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। এবিষয়ে হাকিমপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে মামলা নং ৩।

আজ রবিবার সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করছেন হাকিমপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ফেরদৌস ওয়াহিদ।

মামলা সূত্রে জানা যায়,গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে হিলির দক্ষিণ বাসুদেবপুরের (ক্যাম্পপট্টি) রমজান আলীর বাড়িতে প্রাচীর টপকে একই এলাকার বাসিন্দা,হান্নান ও তার ছেলে সোহেল রানাসহ ৫ থেকে ৬ অজ্ঞাতনামা চুরি করতে আসে। তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জায়গায় চুরি-ডাকাতি করে থাকে।

সেদিন রাতে রমজান আলী বাড়িতে না থাকায়,তার স্ত্রী রাত সাড়ে ১১ টায় সময় ছেলে আর মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে হান্নান তার দলবল নিয়ে চুরি করতে প্রাচীর টপকে বাড়িতে প্রবেশ করে। তার স্ত্রী ছেলে-মেয়েরা টের পেলে ১ নং আসামি তার ৬ বছরের ছেলের গলায় ছুরি ধরে টাকা ও সোনা চায়। পরে টাকা ও সোনা না দিলে চোরেরা জোর করে রুমে রাখা ১১ আনা সোনার একটি ৪৫ হাজার টাকার চেন ও ৮০ হাজার টাকা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।

এসময় পলি খাতুন (২৭) ১ নং আসামিকে বাঁধা প্রদান করলে হান্নানের হাতে থাকা একটি টচ লাইট দিয়ে পালি খাতুনের মাথায় সজোরে আঘাত করে। সে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় নিচে পড়ে যায় এবং সে চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে চোরেরা টাকা এবং সোনা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পালি খাতুনকে উদ্ধার করে হাকিমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। রাতেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং মাথায় ৫ টি সেলাই দিয়ে ছেড়ে দেন।

পরের দিন ৪ মে শুক্রবার থানায় উপস্থিত হয়ে পলি খাতুন বাদি হয়ে হান্নান ও তার ছেলেসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জনের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের করেন।

হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফেরদৌস ওয়াহিদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, হান্নান ও তার ছেলে সহ ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা বিবাদীদের বিরুদ্ধে ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬ ও ৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ রুজ করেছি।

তিনি আরও জানান,থানার অফিসার এসআই সরদার আরমানকে মামলটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের গ্রেফতারে করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য