রাগ করে বাড়ি ছাড় অভিমানি আরিফের দায়িত্ব নিননি মা, পরিবারের কাছে ফিরলেন বৃষ্টি

রাগ করে বাড়ি ছাড়া অভিমানি আরিফের দায়িত্ব নিননি মা, পরিবারের কাছে ফিরলেন বৃষ্টি

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ আট বছরের শিশু আরিফ। মায়ের ওপর অভিমান করে নিজ বাড়ি থেকে ট্রেনে বেরিয়ে পড়েন অজানা উদ্দেশ্যে। বিকেলে পৌঁছেন বিরামপুর রেলষ্টেশন এলাকায়। দিন গড়িয়ে রাতে একা একা ষ্টেশনে কাঁদতে থাকেন আরিফ। স্থানীয়দের দেয়া খবরে রাত ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নারী ও শিশু সহায়তা কেন্দ্রে রাখা হয়।

পরদিন,শিশু অরিফের দেয়া তথ্যে তার মাকে খবর দেয়া হয়।কিন্তু হতভাগা আরিফের মা এসে সাফ জানিয়ে দেয় তারা ওকে পরিবারে ফিরে নিবেন না। অবশেষে আরিফের ঠিকানা রংপুর শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পূর্ণবান কেন্দ্রে।

উদ্ধার হওয়ার পর শিশু আরিফ পুলিশের কাছে বলেন,‘ঠাকুরগাঁও জেলার রানী শঙ্কল উপজেলার রাইতনগর এলাকায় তার বাসা। তার বাবার নাম জাবেদ আলী, আর মা জিল্লু বেগম। বছর তিনেক আগে আরিফের বাবা জাবেদ আলী মারা যান। এর পর মা জিল্লু বেগম অন্যত্র বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। সেখানেই কারনে অকারনে অরিফের ওপর নির্যাতন করত তার পরিবার। পরে মায়ের ওপর অভিমান করে বাড়ি ছাড়েন আরিফ।

জানতে চাইলে বিরামপুর থানা পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মো.মতিয়ার রহমান বলেন,‘মঙ্গলবার রাতে আরিফ নামের এক শিশু ষ্টেশনের এক পাশে বসে কাঁদছেন স্থানীয়দের দেয়া খবরে সেখানে বিরামপুর থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আরিফকে উদ্ধার করে থানায় নারী ও শিশু সহায়তা কেন্দ্রে রাখা হয়। পরে শিশুটির দেওয়া তথ্যেই ওর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়।

তিনি বলেন,‘ পরদিন ওই শিশুটির মা এসে তাকে পরিবারের কাছে ফিরে নিতে আপত্তি জানান।পরে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় রংপুর শেখরাসেল শিশু প্রশিক্ষন ও পূর্ণবাস কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

এদিকে,‘যশোর থেকে বিরামপুর বান্ধবির বাড়ি বেড়াতে এসে পথ হারিয়ে ফেলে বৃষ্টি আকতার(২৩)নামের এক যুবতি। পরে আজ শনিবার সকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিরামপুর শহরের ঢাকামোড় এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন বিরামপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নূরে আলম সিদ্দিক।মেয়েটির বাড়ি যশোর জেলার কোতয়ালী থানার শংকরপুর এলাকার বিপ্লব মিয়ার মেয়ে।

বিরামপুর থানা সুত্রে জানা যায়,বৃহস্পতিবার রাতে বিরামপুর পৌর শহরের ঢাকামোড় এলাকায় এক যুবতী মেয়ে কাঁদছিল। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে ওই মেয়েটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে খবর দেওয়া হয়।আজ শনিবার সকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের উদ্ধার হওয়া বৃষ্টি বেগম বলেন,‘ বিরামপুর আসমা(ছদ্দনাম) নামের একটি মেয়ের সাথে দির্ঘদিন আগে মোবাইলে পরিচয় হয়। ওই মেয়েটির মোবাইলের মাধ্যমে দাওয়াত দিলে তার বাসে করে রওনা দেন। পরে বিরামপুর এসে মেয়েটির সঙে বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলেও তার কোন খোঁজ পাননি বৃষ্টি। অবশেষে রাতে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য