দিনাজপুরে করোনায় একদিনে ৩ জনের মৃত্যু!! আসছে লকডাউনের সিদ্ধান্ত

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দ্রুতই দিনাজপুরে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। গত ২৪ ঘন্টায় দিনাজপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা দাড়ালো ১৩৪ এ। এর আগেও গত শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও গত ৫ দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। এখন পর্যন্ত সনাক্তের দিক দিয়ে এই জেলায় মৃত্যুহার ৪.২৩ শতাংশ। গত মাসেও এই জেলায় সনাক্তের বিবেচনায় মৃত্যুহার ছিল ৪.৩৬ শতাংশ।

এমন অবস্থাতে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি অথবা দুটি উপজেলাকে কঠোর লকডাউনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। আগামী ২৪ঘন্টার মধ্যে ঘোষনাপত্র জারি কথাও জানান তিনি। আর জেলায় বিশেষ করে সদরে সংক্রামণ হার ও মৃত্যুহার বেশি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক বলছেন, দুই/একদিনের মধ্যেই সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে সীমিত বিধিনিষেধ আরোপিত হতে পারে।

দিনাজপুর জেলায় প্রথম করোনা সনাক্ত হয় ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল। এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর আক্রান্তে বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সেই সাথে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এই বছরের মার্চ মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪৬ জন, এপ্রিল মাসে ৫২৬ জন এবং মে মাসে তা দাড়ায় ৪১৩ জনে। সেই হিসেবে মে মাসে গড়ে যেখানে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৩ জনের একটু উর্দ্ধে সেখানে জুন মাসের গত ৫ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪২ জন।

অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ২৮ জনের উর্দ্ধে। এছাড়াও গত এপ্রিল মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭ জন সেখানে মে মাসে মারা গেছেন ১৮ জন। আর চলতি জুন মাসের ৫ দিনে মারা গেছেন ৬ জন। সনাক্ত বিবেচনায় এপ্রিল মাসে মৃত্যু হার ১.৩৩ শতাংশ, মে মাসে ৪.৩৬ শতাংশ আর চলতি জুন মাসের এই ৫ দিনে মৃত্যুহার ৪.২৩ শতাংশ।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ১৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৩ জনের নমুনা পজিটিভ হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র দিনাজপুর সদর উপজেলার সংখ্যা ১৫ জন। এই উপজেলায় মোট ৫৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। অর্থাৎ এই উপজেলায় করোনা সংক্রমনের হার ২৭.৫৯ শতাংশ।

দিনাজপুরে গত ২৪ ঘন্টায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বিরলে একজন, সদরে একজন ও বিরামপুরে একজন। নিহতরা হলেন- বিরামপুরের মোজাফফর হোসেন (৬৫), বিরলের শাহজাহান আলী (৬১) ও সদরের নাজনীন চৌধুরী (৫১)। মোজাফফর হোসেন ও শাহজাহান আলীর করোনা সনাক্ত হয় ২৩ মে, আর নাজনীন চৌধুরীর করোনাা সনাক্ত হয় ২৭ মে। এরপর তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।

এখন পর্যন্ত জেলায় যে মোট ১৩৪ জন মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে ৬৪ জনই সদরের। অর্থাৎ জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে এই উপজেলায় মৃত্যুহার ৪৭.৭৬ শতাংশ। আর মোট ৫৯৮৪ জন আক্রান্তের মধ্যে ৩৩৫৩ জনই সদর উপজেলার। সেই হিসেবে এই উপজেলার আক্রান্তের হার ৫৬.০৩ শতাংশ। দিনাজপুরে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৭ জন রোগী আর হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ২৬৫ জন।

দিনাজপুর করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে দিনাজপুর সদর উপজেলায় সংক্রমন অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলা করোনা কমিটির বৈঠক হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোর সিদ্ধান্তে দিকে যাচ্ছি। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা একটি দুটি উপজেলাকে কঠোর লকডাউনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে যাচ্ছি। আগামী ২৪ঘন্টার মধ্যে আমরা ঘোষনাপত্র জারি করবো।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর করোনা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী বলেন, জেলায় করোনা সংক্রামন বাড়ছে এবং সদরে অনেক বেশি। সদরে করোনা সংক্রামনের হার ও মৃত্যুহার দুটোই বেশি। বিষয়টি অবজারভ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী দুই/একদিনের মধ্যে করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় বসে সবার মতামত নিয়ে এবং স্বাস্থ্য বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সেক্ষেত্রে সীমিত বিধিনিষেধগুলো আরোপিত হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য