ভারত সরকারের টিকা নীতির সমালোচনায় সুপ্রিম কোর্ট

ভারত সরকারের টিকা নীতির সমালোচনায় সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের টিকাদান নীতি ‘খামখেয়ালি’ এবং ‘অযৌক্তিকতায়’ ভরা বলে সমালোচনা করে এ নীতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

টিকা পাওয়ার জন্য অ্যাপ এর মাধ্যমে কেন নিবন্ধন করতে হবে তার ব্যাখ্যা চেয়ে আদালত বলেছে, সরকারের এই নীতিতে ইন্টারনেটের ব্যবহার কম থাকা গ্রামাঞ্চলগুলোতে মানুষের টিকা পাওয়া দুরূহ হয়ে উঠবে ।

এছাড়াও, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি রাজ্যগুলোর মধ্যে টিকার জন্য প্রতিযোগিতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কিনা তাও আদালত জানতে চেয়েছে।

জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২২ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে ভারতে। তবে দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষই এখনও পুরোপুরি টিকা পায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ৯৬ কোটি মানুষের টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও এত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহের ধারেকাছেও নেই সরকার।

ভারতের কোভিড মহামারীর ভয়ানক দ্বিতীয় ঢেউ এবং আসন্ন তৃতীয় ঢেউয়ের কারণে তৈরি হয়েছে টিকার স্বল্পতা। এ পরিস্থিতিতে বয়সের ভিত্তিতে টিকার দাম নির্ধারণ নিয়েও কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

৪৫ ঊর্ধ্ব নাগরিকদেরকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া এবং এর কম বয়সীদেরকে দাম দিয়ে টিকা নেওয়ার নীতি নিয়েছে কেন্দ্র। এই নিয়মকে কেন্দ্র সরকারের ‘খামখেয়ালি’ এবং ‘অযৌক্তিক’ বলে সমালোচনা করেছে আদালত।

এ নিয়ে সোমবার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই রায় প্রকাশ পায় বুধবার। সুপ্রিম কোর্ট রায়ে কেন্দ্রের টিকাদান নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছে, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কত টিকা দেশে পাওয়া যাবে তার একটি হিসাব দিক সরকার। একইসঙ্গে কেন্দ্রকে টিকাকরণ নীতিও পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

ভারত সরকার এর আগে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। টিকা তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুততর করে অগাস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ২শ’ কোটি ডোজ টিকা তৈরির চেষ্টা করছে ভারত।

বর্তমানে স্থানীয়ভাবে তৈরি টিকা কোভ্যাক্সিন এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড ব্যবহার করছে ভারত। সর্বোচ্চ পরিমাণ টিকা প্রস্তুতকারী সিরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া কোভিশিল্ড তৈরি করছে। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎপাদক ভারত-বায়োটেক তৈরি করছে দেশীয় টিকা কোভ্যাক্সিন।

এছাড়াও, এপ্রিলে অনুমোদন পাওয়া রাশিয়ার টিকা স্পুটনিক-ভি’রও ৩০ লাখ ডোজ পৌঁছেছে ভারতে।

ভারতে বর্তমানে তৈরি হচ্ছে আট রকমের টিকা, যার মাঝে মাত্র তিনটি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। বাকি পাঁচটির মাঝে তিনটি এখনও ক্লিনিকাল ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ে ও দুইটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

গণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের দূর্বল পরিকল্পনা নীতি, নিয়ন্ত্রণহীন দামসহ আরও কিছু কারণে ভারত সরকারের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থাপনা রাজ্য সরকারগুলোর জন্য অন্যায়মূলক এক প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য