ব্রিটিশ ভোগ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদকন্যা মালালা

ব্রিটিশ ভোগ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদকন্যা মালালা

আন্তর্জাতিক

তালেবান হামলার শিকার হয়েও বেঁচে ফিরে আসা পাকিস্তানের নারীশিক্ষা কর্মী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই এবার ব্রিটিশ ভোগ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদকন্যা হয়ে আসছেন।

ম্যাগাজিনের জুলাই সংখ্যায় তাকে নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদের জন্য ফটোশুটে কোনও গ্ল্যামারাস পোশাক নয় বরং নিখাদ পাকিস্তানি কন্যার সাজেই ছবি তুলেছেন তিনি।

ম্যাগাজিনটির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত জীবনকথায় ব্যক্তিজীবন, বিশ্বাস, লেখাপড়া, টুইটারে সক্রিয়তা ও অ্যাপল টিভি প্লাসের সঙ্গে অংশীদারিত্বসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করা ২৩ বছরের মালালা।

ম্যাগাজিনটিতে গ্রেটা থুনবার্গ ও এমা গনজালেসের মতো কিশোরী সংগঠকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়েও মালালা কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “একজন কিশোরী হৃদয় যে শক্তি বহন করে সে সম্পর্কে আমি জানি।”

ভোগের জুলাই সংখ্যার প্রধান মুখ মালালাকে নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা ও অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুকসহ কয়েকজন গন্যমাণ্য ব্যক্তিত্বও। মালালাকে ‘সত্যিই অসাধারণ’ বলে প্রশংসা করেছেন মিশেল ওবামা। আর টিম কুক বলেছেন, “তার (মালালা) মতো আর একজনও আছে বলে আমি মনে করি না।”

ব্রিটিশ ভোগ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদকন্যা মালালা

ম্যাগাজিনের জন্য মালালার ছবি তুলেছেন নিক নাইট। প্রচ্ছদে ফ্যাশন ডিজাইনার স্টেলা ম্যাককার্টিনির নকশা করা উজ্জ্বল লাল পোশাক ও মাথায় ওড়না পরেছেন তিনি। এছাড়া, আরেকটি ছবিতে তিনি পরেছেন লাল পোশাক ও লিনেন ট্রাউজার। সঙ্গে আছে নীল ওড়না।

সাক্ষাৎকারে ওড়নাকে ‘পশতুন সংস্কৃতির প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেন মালালা। তিনি বলেন, “মুসলিম, পশতুন বা পাকিস্তানি নারীরা যখন ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তাদের নিপীড়িত, নির্বাক এবং পিতৃতন্ত্রের অধীন বলে বিবেচনা করা হয়। আমি প্রত্যেককে বলতে চাই, আপনার সংস্কৃতির মধ্যে থেকেও আপনার কণ্ঠ থাকতে পারে, এবং সমতাও থাকতে পারে।”

ভোগের প্রচ্ছদ তারকা হতে পেরে খুবই ‘উচ্ছ্বসিত ও সম্মানিত’ বোধ করেছেন বলে ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন মালালা। আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “প্রচ্ছদে তাকে দেখে মেয়েরা জানতে পারবে যে তারাও জগত বদলাতে পারে।”

পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় ২০১২ সালে তালেবানের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে নারী শিক্ষার জন্য প্রচার চালানোয় কিশোরী মালালা স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছিলেন। সরাসরি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মালালা ফিরে এসেছেন নতুন জীবনীশক্তিতে। সেই থেকে এখনও বিশ্বে পিছিয়ে পড়া নারীদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন মালালা ইউসুফজাই। শান্তিতে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেল পুরস্কারজয়ী তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য