পঞ্চগড়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

পঞ্চগড়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

রংপুর বিভাগ

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ বিরূপ আবহাওয়ায় পঞ্চগড়ে গত দু সপ্তাহ ধরে শিশুদের সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন পেটের পীড়া দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন সরকারী হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বারে চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে শিশুদের।

চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ করে আবহাওয়ার পরির্বতন জনিত কারণে শিশুদের এসব রোগ বালাই বাড়ছে। সরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা অধিকতর গুরুত্বরদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আর অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্যৈষ্ঠের শুরু থেকেই টানা তাপদাহ বিরাজ করায় গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে পড়ে মানুষের জীবন জীবিকা। এর এক সপ্তাহ পর থেকে আবহাওয়া পরির্বতন হয়ে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। গরম ঠান্ডায় হঠাৎ করেই বাড়তে থাকে বিভিন্ন রোগ বালাই। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্ক মানুষরা এই বৈরী আবহাওয়ায় আক্রান্ত হতে থাকে বিভিন্ন রোগে। চিকিৎসকরা বলছেন, গুমোট আবহাওয়ায় বাড়ি থেকে বের না হতে এবং শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে মায়েদের পরামর্শ দিয়েছেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল এলাকার মতিউর রহমান জানান, গত ৫ দিন ধরে তার ৬ মাসের শিশু কোন খাবার খাচ্ছে না, সারাক্ষন শুধুই কান্নাকাটি করছে। ঠাকুরগাও গিয়ে শিশু ডাক্তারকে দেখালাম। তিনি চিকিৎসা দেয়ার পর এখন সুস্থ্য আছে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গরম-ঠান্ডায় শিশুরা বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে শিশুদের খাবার পরিবেশনসহ সহনীয় তাপমাত্রায় তাদের সুরক্ষিত রাখার পরার্মশ দেয়া হচ্ছে।

ঠাকুরগাও আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহানেওয়াজ বলেন , গত ২ সপ্তাহ ধরে, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুরা আমার কাছে আসছে। যারা গুরুত্বর আক্রান্ত হচ্ছে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। আবহাওয়ার তারতম্যসহ শিশুদের বাইরের অপুষ্টিকর খাবার এবং বাসি ও ঠান্ডা খাবার খাওয়ানোর কারনে এসব রোগ বালাই দেখা দিয়েছে।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুর রহমান বলেন, মা ও শিশুদের চিকিৎসা নিবিড়ভাবে প্রদান করার জন্যে হাসপাতালে বিশেষ ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। স্যালাইনসহ সরকারী ভাবে শিশুদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য