ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে ছয় টুকরো করেন ফাতেমা

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে ছয় টুকরো করেন ফাতেমা

জাতীয়

মহাখালী থেকে উদ্ধার হওয়া ময়না মিয়ার ছয় টুকরো মরদেহটির রহস্য উদঘাটন করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ময়না মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে প্রথম স্ত্রী তাকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহটি ছয় টুকরো করে ফেলে দেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফাতেমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেপ্তারের সময় ফাতেমার কাছ থেকে বোরকা, নিহতের রক্তমাখা জামাকাপড়, ধারালো ছুরি, ধারালো দা, বিষাক্ত পেয়ালা ও শীল-পাটা উদ্ধার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১ জুন) দুপুরে রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ।

তিনি বলেন, ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান, অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সাকলায়েন ও অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রেজাউল হক টিম নিয়ে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ঘটনাটির রহস্য উন্মোচন করেন। এ হত্যাকা-ের একমাত্র আসামি নিহতের প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে হারুন-অর-রশীদ বলেন, রোববার (৩০ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের আমতলী এলাকায় একটা নীল রঙের ড্রামের মধ্যে বনানী থানা পুলিশ একজন পুরুষ ব্যক্তির মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে। এরপর রাত ১১টার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছে খ-িত দুটি পা এবং কাঁধ থেকে খ-িত দুটি হাতের অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল পুলিশ।

এ বিষয়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ইউনিটের সঙ্গে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ ভিকটিমের পরিচিতি শনাক্ত করার জন্য চেষ্টা চালায়। আর ডিবির গুলশান বিভাগের একটি টিম নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হয়।

ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, নিহত ব্যক্তি বনানীর কড়াইল এলাকাতে তার প্রথম স্ত্রী ফাতেমার সঙ্গে কয়েকদিন ধরে বসবাস করছিলেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ বনানী থানার একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির কোম্পানির অফিস থেকে আসামি ফাতেমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে মশিউর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ফাতেমা জানান, গত ২৩ মে থেকে তার স্বামী ময়না মিয়া কড়াইল এলাকায় তার বাসাতেই অবস্থান করছিলেন। পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা বণ্টন ও একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে ময়না মিয়ার সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে ফাতেমা পরিকল্পনা করে তার স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করেন এবং পরবর্তীতে টুকরো টুকরো করে মরদেহ ফেলে দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য