কয়রায় জনগণের তাড়া খেয়ে পালালেন সংসদ সদস্য

কয়রায় জনগণের তাড়া খেয়ে পালালেন সংসদ সদস্য

জাতীয়

রবিবার ভোর ৬টা থেকে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়ায় ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ করেছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। মঙ্গলবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে একটি ট্রলার নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সাংসদ মো. আক্তারুজ্জামান।

এসময় বাঁধে কাজ করা উত্তেজিত জনতা সংসদ সদস্যকে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাকে লক্ষ্য করে কাঁদা ছুড়ে মারতে থাকেন। বাধ্য হয়ে সেখান থেকে ট্রলার নিয়ে চলে যান সাংসদ।

তবে সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান দাবি করেছেন, তাঁকে বহনকারী ট্রলারে কাঁদা ছুড়ে মারা হয়নি। তিনি বলেন, প্রতিবছর ভাঙনে তাঁরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হন। ভাঙন এলাকায় কাজ করছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। সেখানে গেলে তাঁকে দেখে মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। স্থানীয় মানুষ চান টেকসই বেড়িবাঁধ।

সংসদ সদস্যের মতে, তাঁদের ওই দাবি যৌক্তিক। বারবার বাঁধ ভাঙে আর বারবার স্বেচ্ছাশ্রমে তাঁদের কাজ করতে হয়। এ কারণে সাংসদের ওপর তাঁদের ক্ষোভও বেশি। পরে ওই এলাকায় নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাঁধের কাজ করা হয়েছে।

সেসময় ট্রলার থেকে মাইকে উপস্থিত জনতাকে শান্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। পরিস্থিতি শান্ত হলে পুনরায় ফিরে আসেন সাংসদ মো. আক্তারুজ্জামান।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে নদীর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত খুলনার কয়রা উপজেলায় হাজার হাজার মানুষ অস্তিত্ব রক্ষায় স্বেচ্ছায় বেড়িবাঁধ নির্মাণে কাজ শুরু করেন।

জানা যায়, আগে থেকেই মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালীয়ায় বেড়িবাঁধ বাঁধার ঘোষণা দেওয়া ছিলো। ফলে এদিন দূর-দূরান্ত থেকে কেউ হেঁটে, কেউ নৌকা বা ট্রলারে করে নিজ নিজ দায়িত্বে ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে বাঁধ বাঁধতে চলে আসেন। নদীতে ভাটা চলাকালে দল-মত নির্বিশেষে ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণে কাজ করেছেন স্থানীয় মানুষ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য