RBRU

কে হচ্ছেন বেরোবি’র পরবর্তী ভিসি?

রংপুর বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত ভিসি অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর চার বছর মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী তার মেয়াদকালের শেষ কার্য দিবস ছিল সোমবার (৩১ মে)। এদিনও তিনি অনুপস্থিত থেকেছেন ক্যাম্পাসে। চতুর্থ ভিসি হিসেবে ২০১৭ সালের ১৪ জুন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

ভিসি কলিমউল্লাহ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রোফেশনালস এর সাবেক প্রোভিসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে তাকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবেনা বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক বিশ^স্ত সূত্র। মেয়াদ শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করবেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদটি শূন্য রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির চারজন ভিসির মধ্যে তিনি একমাত্র দিনের পর দিন লাগাতার ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেন। আর এই সুযোগে ভিসি কলিমউল্লাহর অনুপস্থিতে সুবিধা গ্রহণ করেছেন ভিসির অনিয়ম-দুর্নীতির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগীতাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা।

ভিসি হিসেবে নিয়োগের পর থেকেই লাগামহীনভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন কলিমউল্লাহ। এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ‘বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প’ শেখ হাসিনা ছাত্রী হল ও ড. ওয়াজেদ রিসার্চ এ- ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ স্বাধীনতা স্মারকের নির্মাণ কাজে ভিসি অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। শুধু তাই নয় জনবল নিয়োগ, রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অমান্য করে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া, শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে আরেকটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। যার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে দুর্নীতি ও সেশনজট মুক্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ ভিসি কলিমউল্লাহর দ্রুত শাস্তি ও ভিসির দুর্নীতির সহযোগী প্রোভিসি, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারের দ্রুত অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে মঙ্গলবার (১ জুন) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে নেতৃবৃন্দ ভিসির দপ্তরে গেলে ভিসির পিএস আমিনুর রহমানকে ভিসি দপ্তরের কাজ বন্ধ করে তালা দিতে বলে দপ্তরে। কিন্তু পিএস দপ্তর থেকে বের হতে অসম্মতি জানালে নেতৃবৃন্দ বের হয়ে আসেন।

অপরদিকে কে হচ্ছেন পরবর্তী ভিসি এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আলোচনায় উঠে এসেছে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের নাম। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরবর্তী ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেশ কয়েকজন আবেদন করেছেন। এখন দেখার অপেক্ষায়, কে হচ্ছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী উপাচার্য?

প্রসঙ্গত, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হিসেবে ড. লুৎফর রহমান ৬ মাসের মতো দায়িত্ব পালন করেন এবং দ্বিতীয় ভিসি হিসেবে মু. আবদুল জলিল মিয়া তার নির্দিষ্ট মেয়াদকালের একদিন আগেই তার দায়িত্ব থেকে অপসারিত হন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রথমবারের মতো তৃতীয় ভিসি হিসেবে ড. একে এম নূর উন নবী চার বছরের পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য