কুড়িগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই ধসে পড়েছে গৃহায়নের ঘর

কুড়িগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই ধসে পড়েছে গৃহায়নের ঘর

রংপুর বিভাগ

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের জন্য দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণাধীন অবস্থায় ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (৩১ মে) মধ্যরাত থেকে বৃষ্টিতে উপজেলার দাঁতভাঙা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে নির্মাণাধীন ২৬টি ঘরের মধ্যে চারটি ঘর ধসে পড়ে বলে নিশ্চিত করেছেন রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আজিজুর রহমান।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার দাঁতভাঙা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের হরিণধরা (বগারচর) গ্রামে প্রথম পর্যায়ে ৯টি ঘর নির্মাণ করে হস্তান্তর করা হয়। পরে দ্বিতীয় পর্যায়ে সেখানে আরও ২৬টি ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে যেগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু সোমবার মাঝরাত থেকে হালকা বৃষ্টির ফলে এসব নির্মাণাধীন ঘরের ভিত্তি ওয়ালের পাশের মাটি সরে গিয়ে চারটি ঘর ধসে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণ ত্রুটির কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এসব ঘর ধসে পড়েছে। মাটি ভরাটের পর পর্যাপ্ত কম্পেকশন করার আগেই তাড়াহুড়ো করে ঘর নির্মাণ করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মাটি ভরাটের পর সময় নিয়ে এসব ঘর নির্মাণ করলে এমন সমস্যা হতো না।

তবে নির্মাণ ত্রুটি কিংবা নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি নাকচ করেছেন পিআইও আজিজুর রহমান। তিনি জানান, মূলত বৃষ্টির পানির প্রবাহে ঘরের পাশের মাটি সরে গিয়ে ঘরগুলোর ওয়াল ধসে গেছে।

পিআইও বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়ার পরই ইউএনও স্যারসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুততার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামতের ব্যবস্থা নিয়েছি। এগুলো ভেঙে ফেলে আবারও নতুন করে গেঁথে তোলা হবে। পাশাপাশি মাটি সরে গিয়ে সৃষ্টি হওয়া গর্তগুলো ভরাটের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি পরবর্তীতে ভারি বর্ষণ হলেও আর এমন সমস্যা হবে না।’

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান জানান, ‘দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণাধীন ওই ঘরগুলোতে এখনও ছাউনি দেওয়া হয়নি। এরমধ্যে সারারাত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ঘরের ভেতর ও বাইরে বৃষ্টির পানির প্রবাহে ঘরের পাশের মাটি সরে গিয়ে চারটি ঘরের ওয়াল ধসে গেছে। আমরা তাৎক্ষণিক সেগুলো মেরামতের ব্যবস্থা নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো আবারও নির্মাণ করা হবে।’

মাটি ধরে রাখতে প্রকল্পের চারপাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হবে জানিয়ে ইউএনও আরও বলেন, ‘ঘর নির্মাণে ইট, সিমেন্ট বা বালুর কোনও কমতি করা হয়নি। এর আগে ওই স্থানে যেসব ঘর হস্তান্তর হয়েছে সেগুলোতে কোনও সমস্যা হয়নি। মূলত ওই এলাকার মাটিগুলো বালুময় হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে সেগুলো ধুয়ে যায়। এজন্য আমরা এবার মাটি ভরাট ও কম্পেকশনের কাজ করার পাশাপাশি মাটি ধরে রাখতে গাইড ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছি।’

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ‘ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন প্রকল্প’ নামে মুজিব শতবর্ষে রৌমারীতে প্রথম পর্যায়ে ৫০টি ঘর নির্মাণ করে তা ভূমিহীন পরিবারগুলোকে হস্তান্তর করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে সেখানে ২০১টি ঘরের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৬১টি ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য